দিল্লি, ১৫ মেঃ লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র বিদেশ সফর নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হল জাতীয় রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার বিজেপি সাংসদ সম্বিত পাত্র সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, গত ২২ বছরে রাহুল গান্ধী মোট ৫৪ বার বিদেশ সফর করেছেন এবং তাতে প্রায় ৬০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এই বিপুল অর্থের উৎস কী, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি।
সম্বিত পাত্রের দাবি, রাহুল গান্ধীর ঘোষিত আয় প্রায় ১১ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ বিদেশ সফরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। বিজেপি নেতার প্রশ্ন, “এই টাকার জোগান কে দিল?” তাঁর অভিযোগ, সাধারণ মানুষের সামনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কথা বললেও নিজের বিদেশ সফরের খরচ নিয়ে কখনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি কংগ্রেস নেতা।
বিজেপির আরও দাবি, রাহুল গান্ধীর প্রায় প্রতিটি বিদেশ সফরেই তাঁর সঙ্গে একাধিক সহযোগী ও প্রতিনিধিদল যেত, যার ফলে খরচ আরও বেড়েছে। দলের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, এই সফরগুলির অর্থ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে বহন করা হয়েছিল, নাকি কোনও বিদেশি সংস্থা, কর্পোরেট গোষ্ঠী বা অন্য কোনও উৎস থেকে অর্থ এসেছে। বিজেপি সাংসদের ইঙ্গিত, বিদেশি অর্থায়নের বিষয় সামনে এলে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন বা এফসিআরএ সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠতে পারে।
রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলেছে বিজেপি। সম্বিত পাত্র বলেন, “দেশ সংকটে থাকলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দিনরাত কাজ করেন, আর রাহুল গান্ধী বিদেশে চলে যান।” তাঁর অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির সময়েও বহুবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন রাহুল, যা দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর কমানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই মন্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক মহলের মতে, তার পর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে এই ইস্যুতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
যদিও বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে কংগ্রেস। দলের প্রচার বিভাগের প্রধান জয়রাম রমেশ দাবি করেন, দেশের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতেই এই ইস্যুকে সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, “সম্বিত পাত্র নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়াতেই এই ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন।”
অন্যদিকে কংগ্রেস সাংসদ মণিকম ঠাকুর পালটা প্রশ্ন তোলেন, বিদেশ সফর নিয়েই যদি এত আলোচনা হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ ও বিস্তারিত তথ্যও সামনে আনা হোক। তাঁর অভিযোগ, ব্যক্তিগত আক্রমণের মাধ্যমে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে বিজেপি।





