কলকাতা, ১৫ মেঃ গ্ল্যামার জগতের ঝলমলে জীবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ব্যক্তিগত টানাপোড়েন ফের সামনে এল। দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে বিচ্ছেদের পথে হাঁটলেন অভিনেত্রী মৌনী রায় এবং তাঁর স্বামী ব্যবসায়ী সূরজ নাম্বিয়ার। সম্পর্ক ভাঙনের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে সূরজের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার, যেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, মৌনীর শর্ত মেনেই তিনি বিয়েতে রাজি হয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে দুবাইয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে প্রথম আলাপ হয় মৌনী ও সূরজের। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, পরে প্রেম। প্রায় তিন বছর সম্পর্কে থাকার পর ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে ধুমধাম করে বিয়ে সারেন তাঁরা। ইন্ডাস্ট্রিতে ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন এই জুটি। তবে সেই সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত টিকল না।
সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক পুরনো সাক্ষাৎকারে সূরজ জানিয়েছিলেন, তিনি প্রথমে বিয়ের পক্ষে ছিলেন না। কিন্তু মৌনী স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, সম্পর্ককে পরিণতি দিতে হলে বিয়ে করতেই হবে। সূরজের কথায়, “আমি শুধু একটু সময় চেয়েছিলাম। কিন্তু ও আমাকে শর্ত দেয়, বিয়ে না করলে পথ আলাদা হয়ে যাবে। তখন আমার কাছে আর কোনও রাস্তা খোলা ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, “বিয়ে না করলে ওকে হারিয়ে ফেলতাম। তখন বুঝেছিলাম, আমাদের বিয়েটা সত্যিই করা উচিত।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অনেকের প্রশ্ন, শর্তের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কই কি শেষ পর্যন্ত ভাঙনের কারণ হয়ে দাঁড়াল?
মুম্বইয়ে এসে নতুন জীবন শুরু করার প্রসঙ্গেও সেই সাক্ষাৎকারে মুখ খুলেছিলেন সূরজ। তিনি জানিয়েছিলেন, মৌনী তাঁকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন। “ওঁর বন্ধুরাই এখন আমার বন্ধু। আমরা একসঙ্গে ঘুরতাম, সময় কাটাতাম। এটা আমাদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার সুন্দর জার্নি ছিল,” বলেছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, এক সাক্ষাৎকারে মৌনীও জানিয়েছিলেন, ব্যস্ত পেশাগত জীবনের মাঝেও তাঁরা নিজেদের সময়টুকু উপভোগ করার চেষ্টা করতেন। অভিনেত্রীর কথায়, “আমরা দুজনেই পরিণত হয়েছি। অভিযোগ ছাড়াই একসঙ্গে থাকতে শিখেছিলাম।”
তবে সময়ের সঙ্গে সেই সমীকরণ বদলে যায়। সম্পর্কের টানাপোড়েন শেষ পর্যন্ত পৌঁছে যায় বিচ্ছেদের সিদ্ধান্তে। যদিও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদের কারণ নিয়ে মুখ খোলেননি মৌনী বা সূরজ কেউই। তবুও তাঁদের সম্পর্ক ভাঙনের খবরে হতাশ অনুরাগীরা। গ্ল্যামার দুনিয়ার ঝকঝকে ছবির আড়ালে যে বাস্তবের চাপ, মানসিক দূরত্ব ও ব্যক্তিগত লড়াই থাকে, এই বিচ্ছেদ যেন ফের সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।





