কলকাতা, ১৫ মেঃ গত বছরের ১০ নভেম্বর রাজধানী দিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণ মামলায় বড় পদক্ষেপ করল জাতীয় তদন্ত সংস্থা। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রায় ৭৫০০ পাতার বিশাল চার্জশিট জমা দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এই মামলায় উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা মহলে।
এনআইএ-র দাবি, ওই বিস্ফোরণের নেপথ্যে ছিল আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’ বা এজিইউএইচ। ২০২৫ সালের সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং বহু মানুষ আহত হন। তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্তদের অনেকেই উচ্চশিক্ষিত এবং পেশাগতভাবে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি ছিলেন।
চার্জশিটে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমির রশিদ মীর, জাসির বিলাল ওয়ানি, চিকিৎসক মুজামিল শাকিল, চিকিৎসক আদিল আহমেদ রাদার, চিকিৎসক শাহিন সাঈদ, মুফতি ইরফান আহমদ ওয়াগে, সোয়েব, চিকিৎসক বিলাল নাসির মাল্লা এবং ইয়াসির আহমদ দার। তদন্তকারীদের দাবি, এঁরা সকলেই ভারতীয় উপমহাদেশে আল-কায়দার শাখা সংগঠন এজিইউএইচ-এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করছিলেন।
এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন উমর উন নবী। পুলওয়ামার বাসিন্দা উমর ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বিস্ফোরণের ঘটনাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিংয়ের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করে এনআইএ।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে একটি বৃহত্তর নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত ভিবিআইইডি বা ভেহিকল-বোর্ন ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল। চার্জশিটে ডিজিটাল যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, জঙ্গি মতাদর্শ প্রচার এবং গোপন বৈঠকের একাধিক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল শিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তিদের জঙ্গি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়া। চিকিৎসক ও শিক্ষিত যুবকদের মধ্যে চরমপন্থী মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য বড় সতর্কবার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে। এনআইএ সূত্রে খবর, এই মামলায় আরও কয়েকজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।





