কলকাতা, ১৫ মেঃ রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই বাংলায় শুরু হতে চলেছে ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি, যেখানে সপ্তাহে এক বা দু’দিন সরাসরি মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার কথা শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী নিজে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপও করা হবে বলে জানা গিয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, আগামী ১ জুন থেকেই এই কর্মসূচি চালু হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরি হয়েছে। বহু মানুষের মতে, প্রশাসনের শীর্ষস্তরে সরাসরি নিজেদের সমস্যা জানানোর সুযোগ সাধারণত খুব কমই মেলে। ফলে এই উদ্যোগ মানুষের কাছে সরকারকে আরও সহজলভ্য করে তুলবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী বারবার জনসংযোগমূলক পদক্ষেপের উপর জোর দিয়েছেন। বিভিন্ন সভা, প্রশাসনিক বৈঠক এবং জনসমক্ষে তাঁর বক্তব্যেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বার্তা উঠে এসেছে। এবার সেই ধারাবাহিকতায় ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর সামনে নিজেদের সমস্যা তুলে ধরতে পারবেন। জমি, স্বাস্থ্য, প্রশাসনিক জটিলতা, সরকারি পরিষেবা, আইনশৃঙ্খলা বা স্থানীয় সমস্যার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানানো যাবে। সেই সময় সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকবেন, যাতে অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সমাধানের পথে এগোনো যায়।
দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল, চিঠি বা আবেদনপত্র পাঠালেও অনেক ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছয় না বা সমাধান হয় না। অনেকেই আবার নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়মের কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন না। সেই সমস্যার সমাধান করতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।
প্রসঙ্গত, দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ধরনের কর্মসূচি চালু রয়েছে। যোগী আদিত্যনাথ-এর উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশে ‘জনতা দরবার’ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নিয়মিত সাধারণ মানুষের অভিযোগ শোনেন। একইভাবে মধ্যপ্রদেশ ও ওড়িশাতেও মুখ্যমন্ত্রীরা সরাসরি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ওড়িশায় এই কর্মসূচি ‘জনশুনানি’ নামে পরিচিত।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বাংলায় এই উদ্যোগ চালু হলে তা প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জনসংযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। পাশাপাশি সরকারের প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বৃদ্ধি পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।





