মুর্শিদাবাদ, ১৫ মেঃ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে পুলিশের কড়া অভিযানের মধ্যেই বড় পদক্ষেপ দুর্গাপুর ও মুর্শিদাবাদে। তোলাবাজি, দাদাগিরি ও প্রতারণার অভিযোগে দুর্গাপুর পুরসভার দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। অন্যদিকে, পুরনো খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন মুর্শিদাবাদের এক তৃণমূল ব্লক সভাপতি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করে হিরা বারুই এবং মানস রায়-কে। শুক্রবার ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দাবি, ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা হীরা বাউরীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই তোলাবাজি ও দাদাগিরির অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেছিলেন, এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে ভয় দেখানো ও বেআইনি অর্থ আদায়ের ঘটনা চলছিল। অন্যদিকে, গোপালমাঠ এলাকার বাসিন্দা মানস রায়ের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, আর্থিক লেনদেনের নামে প্রতারণা এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে। সম্প্রতি রাজ্যজুড়ে তোলাবাজি ও গুন্ডাগিরির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশের পরই এই অভিযান চালানো হয় বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গাপুর থানার এই পদক্ষেপ প্রশাসনের কড়া অবস্থানেরই ইঙ্গিত।
পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় যারা তোলাবাজি, দাদাগিরি বা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের বিরুদ্ধে আগামী দিনেও ধারাবাহিক অভিযান চলবে। উল্লেখ্য, মানস রায় অতীতেও একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদেও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তৃণমূল নেতা গ্রেপ্তার হওয়ায়। ধৃতের নাম মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ। তিনি নবগ্রাম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি এবং পাঁচগ্রামের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে নবগ্রাম থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালে মেহেবুব শেখ নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় এনায়েতউল্লাহর নাম জড়ায়। সেই খুনের মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্ত চলছিল। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র সংক্রান্ত মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুই জেলায় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত মুখদের গ্রেপ্তারির ঘটনায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। প্রশাসনের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, আইনের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।





