কলকাতা, ১৫ মেঃ রাজ্যে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। আর ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই চাপে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়েছে বলে দলের অন্দরে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, তা কার্যত স্বীকার করেই এবার কর্মীদের মনোবল বাড়াতে সরাসরি বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার একটি ভিডিও বার্তায় দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি তৃণমূলের কাছে একপ্রকার “অগ্নিপরীক্ষা”।
ভিডিও বার্তায় বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “যারা লুট করে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বেশিদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না।” নির্বাচনে ভোট লুটের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, “এবারের নির্বাচনে যেভাবে ভোট লুট করা হয়েছে, আমাদের বিশ্বাস এই রায় মানুষের হতে পারে না।” পাশাপাশি গণনার সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবিও তোলেন তিনি।
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও সরব হন তৃণমূল সাংসদ। তাঁর দাবি, ভোটের পরে ১০ জন তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের ভয় পেলে চলবে না, বরং নতুন করে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। দলের হার না মানা মানসিকতাই আগামী দিনে তৃণমূলের সবচেয়ে বড় শক্তি হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের আন্দোলনের প্রসঙ্গও টেনে আনেন অভিষেক। তিনি বলেন, “সোনা আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়। তৃণমূলের সর্বস্তরের সংগঠন ও কর্মীদের এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।” তাঁর কথায়, “আমাদের অস্ত্র আপোসহীন লড়াই, কর্মীদের একতা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।”
এদিন দলীয় কার্যালয় পুনরুদ্ধারের ডাকও দেন তিনি। অভিষেকের বক্তব্য, বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূলের পার্টি অফিস দখল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে, সেই জায়গাগুলি ফের সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। পাশাপাশি বিজেপির “অত্যাচারের” বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদের আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, একই দিনে ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এখন আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই আবহেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভিডিও বার্তা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।





