জলপাইগুড়ি, ৩ মেঃ আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকের ডিমডিমা এলাকায় অবস্থিত ‘হ্যাভেন শেল্টার হোম’ যা দীর্ঘদিন ধরে নিরাশ্রয় ও মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। সেই হোম বর্তমানে চরম সংকটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমানে সেখানে আবাসিকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫ জন। সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খরচ বেড়েছে। তাতেই খাদ্য ও চিকিৎসা পরিষেবা বজায় রাখা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে বলে জানা গিয়েছে।
শেল্টার হোম সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো অসহায় মানুষদের উদ্ধার করে সেখানে নিয়ে আসা হয়।শেল্টারের কর্ণধার সাজু তালুকদার জানিয়েছেন, আবাসিকদের মধ্যে অনেকেই মানসিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় নিজেদের পরিচয় দিতে পারেন না। তবে যাঁরা ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন, তাঁদের পরিবারের সন্ধান করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়।
কিন্তু বর্তমানে নতুন করে আশ্রয় পাওয়া অনেক আবাসিকের শারীরিক অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয়। ফলে চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে বহুগুণে। সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিকিৎসা পরিষেবাও।
যদিও সমাজের কিছু সহৃদয় মানুষ ও সংগঠন আর্থিক ও নানাভাবে সহায়তা করে চলেছেন, তবুও ক্রমবর্ধমান খরচের চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছে না। খাদ্য ও চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে শেল্টার হোম পরিচালনায় বড়সড় সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সাজু তালুকদার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “সরকার যদি এই আশ্রয়গৃহের দায়িত্ব গ্রহণ করে, তাহলে আমি তা তুলে দিতে প্রস্তুত। অন্যথায় সমাজের মানুষ যদি পাশে দাঁড়ান, তাহলেই এই মানবিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। বর্তমানে আমি নিজেও মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছি।”





