কলকাতা, ২২ এপ্রিলঃ ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে কলকাতাজুড়ে কড়া নিরাপত্তার বলয় গড়ে তুলছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, শহরে মোট ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। অর্থাৎ ভোটের আগে ও ভোটের দিন মিলিয়ে প্রায় ২২ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান থাকবেন রাস্তায় ও বুথে। পাশাপাশি, প্রায় ১০ হাজার পুলিশ কর্মীকেও নামানো হচ্ছে নিরাপত্তার দায়িত্বে।
নির্বাচন কমিশন ও লালবাজার সূত্রে খবর, কলকাতায় রয়েছে ১৯৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং মোট ৫১৭২টি বুথ। এই বিপুল পরিকাঠামো সামলাতে থাকছে ৩৫১টি সেক্টর মোবাইল, ১৬০টি আরটি মোবাইল, ২২৯টি কুইক রেসপন্স টিম, ৮০টি হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াড এবং ৩০৬টি অতিরিক্ত কিউআরটি ও নাকা চেকিং টিম। পাশাপাশি তিনটি শিফটে কাজ করবে ৫৭টি ফ্লাইং স্কোয়াড ও ৫৭টি স্ট্যাটিক সার্ভেইল্যান্স টিম (এসএসটি)।
প্রত্যেকটি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও হেভি রেডিও ফ্লাইং স্কোয়াডের দায়িত্বে থাকবেন একজন ইন্সপেক্টর ও একজন সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিক। মোট ১৭২ জন ইন্সপেক্টর ও ১৯৩৮ জন সাব-ইন্সপেক্টর মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়াও ২৪৮৬ জন সশস্ত্র কনস্টেবল-সহ মোট ৭২৪১ জন কনস্টেবল থাকছেন নিরাপত্তার কাজে।
অন্যদিকে, ভোটের আগে দাগি দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার লালবাজারের গোয়েন্দারা দক্ষিণ কলকাতা থেকে জয়দেব মালাকার ওরফে ম্যাণ্ডেলা, মিন্টু ঘরামি ওরফে বল্টু-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি ও অপহরণের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত ২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬৭টি বুলেট ও ১৭২টি বোমা উদ্ধার হয়েছে। পাশাপাশি নগদ ১.৭১ কোটি টাকা ও ৪৭৭ গ্রাম সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, ভোটকে কেন্দ্র করে কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।





