মনিরুল হক, কোচবিহারঃ প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ দিনেই কার্যত ঝড় তুললেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক। এদিন তিনি দক্ষিণ বিধানসভার বিভিন্ন অঞ্চলে ও শহরে ম্যারাথন প্রচার কর্মসূচি, যা দিনভর একের পর এক জনসংযোগ, র্যালি, পথসভা এবং মহামিছিলের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে কোনও খামতি রাখতে চাননি তিনি। প্রতিটি কর্মসূচিতেই তিনি ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
এদিন প্রচার শেষে অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, “কোচবিহারে তৃণমূল কংগ্রেসের ঝড় বইছে। তুফানগঞ্জ থেকে হলদিবাড়ি, দিনহাটার বামনহাট থেকে পাতলাখাওয়া-সব জায়গাতেই মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গে রয়েছে। বিজেপি ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে।” তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা এবং কটূক্তি করা মানুষের ভালো লাগছে না। সেই কারণে মানুষ বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুলছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা এবং কটূক্তি করার বিষয়টি সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নিচ্ছেন না। তাঁর কথায়, “যেভাবে ভাষার তীব্রতা দিয়ে আক্রমণ করা হচ্ছে এবং বাংলায় এসে কু-কথা বলা হচ্ছে, তা মানুষ মেনে নিচ্ছে না।” পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, “কমিশনকে যেভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্রের পক্ষে ঠিক নয়।”
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “যারা বাইরে থেকে এসে ভোট করছে, তারা কোচবিহারকে চেনে না। ভোট শেষ হলেই তারা চলে যাবে। কিন্তু আমরা এখানকার মানুষ, আমরা এখানেই থাকি। আমি মাটির ছেলে, মানুষের পাশে আছি।” তিনি আরও দাবি করেন, কোচবিহারের মানুষ তাঁকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবেই দেখেন এবং তাঁর ওপর আস্থা রাখেন।
নিজের জয়ের বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, “৪ তারিখ ফলাফল বেরোলে কোচবিহারে ৯-০ ব্যবধানে তৃণমূল জয়ী হবে। শহর এলাকায় এতদিন বিজেপি জিতলেও এবার পরিস্থিতি বদলাবে। আমি এক ভোটের ব্যবধানেও জিতব।” তাঁর এই আত্মবিশ্বাস তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রচারের শেষ দিনে অভিজিৎ দে ভৌমিকের এই ব্যস্ত কর্মসূচি তৃণমূল শিবিরে নতুন উদ্দীপনা জোগায়। কর্মী-সমর্থকদের মতে, এই বিপুল জনসমর্থনই আগামী নির্বাচনে জয়ের পথ সুগম করবে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও শেষ মুহূর্তে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত, ফলে কোচবিহার দক্ষিণে লড়াই যে হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, তা স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ দিনের এই জোরদার প্রচার ভোটের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার, ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয় এই জনসংযোগ, র্যালি এবং প্রচারের জোয়ার।





