পূর্ব মেদিনীপুর, ১৮ এপ্রিলঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্র ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল। বামফ্রন্ট ও আইএসএফ জোটে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিল পরিস্থিতি। কয়েকদিন আগেও যেখানে সিপিআই প্রার্থী শান্তি গিরির সমর্থনে প্রচারে নেমেছিল সিপিএম নেতৃত্ব, সেখানে আচমকাই অবস্থান বদল করে আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ আলি খানের পক্ষে প্রচার শুরু করেছে তারা।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জোটের অন্দরে ফাটল প্রকাশ্যে এসেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে সিপিএম ও আইএসএফ নেতৃত্বের মধ্যে একটি জরুরি বৈঠক হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে সেই বৈঠকে সিপিআই-এর কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। বৈঠকের পর সিপিএম জেলা নেতৃত্ব জানায়, জোটের স্বার্থে আইএসএফ প্রার্থীর পক্ষেই প্রচার চালানো হবে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সিপিএম সম্পাদক নিরঞ্জন সিহি বলেন, প্রথমে নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে সিপিআই প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও পরে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসনটি আইএসএফকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই কারণেই দলীয় নির্দেশ মেনে আইএসএফ প্রার্থীর পক্ষেই প্রচারে নামা হয়েছে।
অন্যদিকে সিপিআই নিজেদের অবস্থানে অনড়। দলের জেলা সদস্য সাদ্দাম হোসেনের দাবি, শান্তি গিরিই বামফ্রন্টের প্রকৃত প্রার্থী এবং তাঁকেই জেতাতে শরিক দলগুলো একজোট হয়েছে। যদিও গোটা পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে খুব বেশি মন্তব্য করতে চাননি শান্তি গিরি।
এই টানাপোড়েনের মাঝে কিছুটা অস্বস্তিতে আইএসএফ প্রার্থী সবে মিরাজ আলি খান। তিনি বলেন, জোটের সিদ্ধান্ত আরও আগে হলে বিভ্রান্তি কম হত। তবে এখন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ের ওপরই জোর দিচ্ছেন তিনি।
ভোটের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। তার আগেই জোটের এই অস্বস্তি নন্দীগ্রামের রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




