কলকাতা, ১৭ এপ্রিলঃ কলকাতা হাই কোর্টে পোলিং অফিসার হিসাবে অধ্যাপকদের নিয়োগের সিদ্ধান্তকে ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে কড়া প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলার শুনানির সময় কমিশনের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
শুনানির সময় বিচারপতি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা যখন খুশি তখন বিজ্ঞপ্তি জারি করবেন? তাহলে বিচারপতিদেরও পোলিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করুন।” তাঁর এই মন্তব্যে কমিশনের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, কমিশনের নথিতেই অসংগতি রয়েছে এবং নিয়ম বদলের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব স্পষ্ট।
এর জবাবে নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, একেবারে ভোটের মুখে এই মামলা দায়ের হয়েছে। এখন নতুন করে কর্মী নিয়োগ ও তাঁদের প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ আদালত। বিচারপতি স্পষ্ট করে দেন, “এটা কোনও গ্রহণযোগ্য যুক্তি হতে পারে না। নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতেই হবে।”
কমিশনের আরও দাবি, এই পর্যায়ে বিজ্ঞপ্তিতে হস্তক্ষেপ করলে ২৩টি জেলাতেই নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করতে পারে। এমনকি নির্বাচন বন্ধ হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়। কিন্তু আদালত এই যুক্তিকেও গুরুত্ব দেয়নি।
আবেদনকারীদের পক্ষের আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য জানান, কমিশন চাইলে রিজার্ভে থাকা অফিসারদের কাজে লাগাতে পারে। আদালত শেষ পর্যন্ত কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, শুক্রবারের মধ্যে বিজ্ঞপ্তির স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। তা না হলে আদালত নিজস্ব রায় দেবে। ফলে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।





