কলকাতা, ১৩ এপ্রিলঃ সময় বদলেছে, নির্বাচনও এসেছে নতুন দোরগোড়ায়, কিন্তু সাধারণ মানুষের রান্নার গ্যাসের সমস্যার কোনও সমাধান মেলেনি। বরং দিন দিন তা আরও প্রকট হচ্ছে। আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে ফের ‘গ্যাসের ব্যথা’ বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠছে। রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম এবং সিলিন্ডার সরবরাহের ঘাটতি এই দুই ইস্যুকে সামনে রেখে রাজপথে নেমেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচনের আগেও উত্তরবঙ্গে সিলিন্ডার মিছিল করে এই ইস্যুকে সামনে এনেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন সিলিন্ডারের দাম ৬২০.৫০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ৮৪৫.৫০ টাকায়। বর্তমানে সেই দাম আরও বেড়ে প্রায় ৯৩৯ টাকায় পৌঁছেছে। তবে সমস্যা শুধু দামেই সীমাবদ্ধ নয়, সরবরাহের ক্ষেত্রেও দেখা দিচ্ছে বড়সড় সঙ্কট।
গ্রাহকদের অভিযোগ, আগে যেখানে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলিন্ডার মিলত, এখন সেখানে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ দিন। ইন্ডেন এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সম্পাদক বিজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গিয়েছে, ফলে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র তন্ময় ঘোষের দাবি, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় কূটনৈতিক ব্যর্থতার ফলেই এই জ্বালানি সঙ্কট তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে সিপিএম নেতা রবীন দেবের মতে, শুধু জ্বালানি নয়, দেশের সার্বিক অর্থনীতিই চাপে রয়েছে।
যদিও বিজেপির পাল্টা দাবি, এখনও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে বলেই সিলিন্ডারের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, নইলে তা ১৬০০ টাকা ছাড়িয়ে যেত। তাদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি।
সব মিলিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সমস্যা ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এর প্রভাব ভোটবাক্সে কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার।





