মনিরুল হক, কোচবিহারঃ মূল্যবৃদ্ধি, নোটবন্দি থেকে এনআরসি একাধিক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শীতলকুচির জনসভা থেকে তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অসহনীয় মাত্রায় বেড়ে গিয়েছে এবং তার জন্য দায়ী নরেন্দ্র মোদী-র সরকার।
সভা থেকে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “২০১৪ সালের আগে গ্যাসের দাম কত ছিল, আর আজ কত?” তাঁর দাবি, চাল, ডাল, আলু থেকে শুরু করে জিরে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষ। “মোদীজি গরিব মানুষের পকেট ফাঁকা করে দিচ্ছেন” এই অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রের নীতির কারণে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে উঠেছে।
অভিষেকের কথায়, একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে রাজ্যে একাধিক জনমুখী প্রকল্প চালু হয়েছে, যা সরাসরি মানুষের উপকারে আসছে।
এছাড়াও তিনি নোটবন্দি, জাতীয় নাগরিক পঞ্জি এবং লকডাউনের মতো সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, এই সমস্ত পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষকে বারবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে, অথচ প্রকৃত সুবিধা তারা পাননি।
এই প্রসঙ্গেই তিনি ভোটারদের উদ্দেশে আহ্বান জানান, “আপনারা যেভাবে এতদিন লাইনে দাঁড়িয়েছেন, আগামী ২৩ তারিখ ভোট দেওয়ার সময়ও লাইনে দাঁড়ান এবং ভোটের মাধ্যমে তার জবাব দিন।”
সভায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই পরিবর্তন আনা সম্ভব। ভোটই সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মানুষ নিজের মতামত স্পষ্টভাবে জানাতে পারে।
ভোটের আগে শীতলকুচির এই জনসভা থেকে কেন্দ্র-বিরোধী বার্তা স্পষ্ট করলেন তৃণমূল নেতৃত্ব। একদিকে মূল্যবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নীতির সমালোচনা, অন্যদিকে ভোটের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানোর ডাক সব মিলিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





