মনিরুল হক, কোচবিহারঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র কোচবিহার সফরের আগে কেন্দ্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কোচবিহারের শীতলকুচির জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, গত পাঁচ বছরে আবাস যোজনা বা ১০০ দিনের কাজে কেন্দ্র সরকার যদি কোচবিহারের কোনও গরিব মানুষের জন্য ১০ পয়সাও দিয়ে থাকে, তা প্রমাণ করতে হবে শ্বেতপত্র প্রকাশ করে।
অভিষেক সাফ জানিয়ে দেন, “যদি প্রমাণ করতে পারেন, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। তৃণমূলের হয়ে আর ভোট চাইতে আসব না।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে রাজ্যের মানুষের প্রাপ্য অর্থ দেওয়া হয়নি। এমনকি গ্রাম সড়ক যোজনা বা অন্যান্য উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রেও কেন্দ্রের কোনও কার্যকর ভূমিকা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে অভিষেক বলেন, বিরোধীরা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে আতঙ্ক তৈরির অভিযোগ তোলেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ‘১০ অঙ্গীকার’-এর কথা তুলে ধরেন। তাঁর ঘোষণা, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প আজীবন চালু থাকবে। সাধারণ পরিবারগুলিকে মাসে ১,৫০০ টাকা এবং তপশিলি পরিবারকে মাসে ১,৭০০ টাকা করে দেওয়া হবে। পাঁচ বছরে মোট ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়াও, ২০২৬ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরলে প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং ব্লকে ব্লকে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ শিবির চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে শীতলকুচির জনসভা থেকে একদিকে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে একগুচ্ছ জনমুখী প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে নতুন মাত্রা যোগ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।





