কোচবিহার, ৩১ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে কোচবিহারের সিতাই কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ্যে এসেছে। মঙ্গলবার সকালে দলের তরফে সিতাই কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে আশুতোষ বর্মা-এর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলের একাংশ কর্মী-সমর্থক।
এদিন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা কোচবিহার জেলা পার্টি অফিসে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং ধর্নায় বসেন। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, ঘোষিত প্রার্থীকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে নেতৃত্বের তরফে আলোচনা শুরু হলেও কর্মীদের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আশুতোষ বর্মা একসময় জিসিপি-র সভাপতি ছিলেন, ফলে তাঁর প্রতি আস্থা রাখতে পারছেন না স্থানীয় কর্মীরা। তাঁরা এই সিদ্ধান্তকে ‘বহিরাগত প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া’ বলে কটাক্ষ করেন।
দলীয় কর্মীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যারা এলাকায় সংগঠন চালিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের মধ্য থেকেই প্রার্থী বেছে নেওয়া উচিত ছিল। সেই দাবি উপেক্ষা করায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
ভোটের মুখে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ বিজেপির সংগঠনে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।
এবিষয়ে বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণ জানান,বিষয়টা পার্টির সিদ্ধান্ত এবং পার্টি দলের যা সিদ্ধান্ত হবে সেটাই ফাইনাল সে ২,৪ জনের পছন্দ নাও হতে পারে পার্টি যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাকে নিয়েই আমরা আগামী দিনে এগিয়ে যাব।
এদিকে, শুধু সিতাই নয়, কোচবিহারের অন্য কেন্দ্রেও প্রার্থী ঘোষণাকে ঘিরে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ওই দিনই অন্য একটি কেন্দ্রে গিরিজা শঙ্কর রায়-এর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যিনি বংশীবদনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।এই নিয়েও দলীয় মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একই দিনে গোসানিমারি এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সংগঠনিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল স্থানীয় কর্মী-নেতাদের। কিন্তু প্রার্থী ঘোষণার পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, আশুতোষ বর্মাকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে নারাজ একাংশ কর্মী। বৈঠক শুরুর আগেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা এবং শেষ পর্যন্ত বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায়। তার পরেই কোচবিহার জেলা কার্যালয়ে এসে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা এসে বিক্ষোভ ও ধর্নায় বসেন।





