খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৮ মার্চঃ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন। তার আগেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের তরফে গত ১২ মার্চ সংসদের দুই কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত নোটিস জমা দেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দাবির পক্ষে ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদের সমর্থন জোগাড় করেছে বিরোধী শিবির।
তবে অভিযোগ, নোটিস জমা পড়ার পর দুই সপ্তাহ কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত লোকসভার স্পিকার বা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান কেউই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্তি স্বীকার করেননি। এমনকি সংসদ সচিবালয়ের তরফেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি তৃণমূল ও অন্যান্য বিরোধী দলের।
দলীয় সূত্রে খবর, আগামী সপ্তাহেই এই ইস্যুতে বড় পদক্ষেপের পরিকল্পনা করছে তৃণমূল। বিরোধীদের একজোট হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গোপন আঁতাত ছিল, যা এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে। নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ শাসকদলের।
তৃণমূলের আরও দাবি, সংসদ চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এলপিজি সংকটের মতো বিষয়েও আলোচনা এড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। “চায়ে পে চর্চা নয়, আমরা সংসদে চর্চা চাই” এই স্লোগান তুলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে তারা।
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে, সংসদের অধিবেশনের শেষ দিন পর্যন্ত যদি এই নোটিস নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে পথে নেমে আন্দোলনে নামবে তৃণমূল। পাশাপাশি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে এর জবাব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে সংসদের তিন কার্যদিবসে (সোমবার, বুধবার ও বৃহস্পতিবার) অভিনব পদ্ধতিতে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের পরিকল্পনাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, অনেকদিন ধরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে তৃণমূল। বিশেষ করে এসআইআর ইস্যুতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে একাধিকবার সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী।
সংবিধানের ৩২৪(৫) ধারা অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণ করা সম্ভব হলেও তার জন্য বিচারপতিদের মতোই ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদে প্রস্তাব পাশ করাতে হয়। সেখানে দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সহজ নয় বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।





