ময়নাগুড়ি, ২৫ মার্চঃ ছাব্বিশের নির্বাচন-কে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের ময়নাগুড়ি থেকেই নির্বাচনী প্রচারের সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বুধবারের জনসভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি বিশেষভাবে উত্তরবঙ্গের মহিলা ভোটারদের উদ্দেশে বার্তা দেন তিনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এদিনের সভায় ‘মা-বোনেদের’ উপরই ভরসা রেখেই ভোটের লড়াইয়ের রণকৌশল স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সভামঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের সময় কোনওরকম অশান্তি বা বাধা তৈরি হলে মহিলারাই তা প্রতিহত করতে এগিয়ে আসবেন। তাঁর কথায়, “যে রাঁধে, সে চুলও বাঁধে” এই বার্তার মধ্য দিয়ে তিনি মহিলাদের আত্মবিশ্বাস ও ভূমিকার উপর জোর দেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের একাধিক নারী-কেন্দ্রিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষভাবে উল্লেখ করেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দেন, এই প্রকল্প ভবিষ্যতেও চালু থাকবে এবং মহিলারা যতদিন চাইবেন, ততদিন এই সুবিধা পাবেন। তাঁর দাবি, বাংলার মা-বোনেদের আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য সরকার নিরন্তর কাজ করে চলেছে।
এদিনের সভায় সকাল থেকেই ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়, যার বড় অংশই ছিলেন মহিলা সমর্থকরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্যতম শক্তিশালী ভোটব্যাঙ্কই হল মহিলারা, আর সেই ভিত্তিকেই আরও মজবুত করতেই এই বার্তা দিয়েছেন নেত্রী।
উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। গত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে এই অঞ্চল থেকে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে গেরুয়া শিবির। ফলে এবার সেই জমি পুনর্দখলের লক্ষ্যেই উত্তরবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করেছে তৃণমূল।
সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিকল্পিতভাবে বহু মহিলার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চা-বাগান এলাকার উন্নয়ন এবং শ্রমিকদের কল্যাণে সরকারের কাজের কথাও তুলে ধরেন তিনি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই অঞ্চলের চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশই মহিলা।
সব মিলিয়ে, উন্নয়নের বার্তা, প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক আক্রমণের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের মহিলা ভোটারদের মন জয়ের কৌশল স্পষ্ট করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।





