খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৪ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। এক ধাক্কায় ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে অপসারণ করা হয়েছে, যাঁদের মধ্যে অধিকাংশই মহকুমাশাসক পদমর্যাদার আধিকারিক। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটিতে একজন করে রিটার্নিং অফিসার থাকেন। তাঁদের মধ্যে এত বড় সংখ্যায় একসঙ্গে বদলি নজিরবিহীন বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর কেন্দ্র ভবানীপুরের রিটার্নিং অফিসারকেও সরানো হয়েছে। সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক সুরজিৎ রায়কে। পাশাপাশি কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রেও রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সবচেয়ে বেশি রদবদল হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়, যেখানে ১৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে সরানো হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ১০ জন করে আধিকারিক বদলি করা হয়েছে। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই কমিশন প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ধারাবাহিকভাবে বদলি করে চলেছে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি একাধিক জেলাশাসক ও ডিআইজি স্তরের আধিকারিকদেরও অপসারণ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-কে। তাঁর অভিযোগ, এই ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করছে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, এই ইস্যুতে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছে। আইনজীবী অর্ককুমার নাগ কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন। সোমবার মামলাটির শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর বেঞ্চে।
শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের উদ্দেশ্য ও এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, এত বড় মাত্রায় আধিকারিক বদল নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। আগামী দিনে আদালতের রায় এবং কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।





