কলকাতা, ২২ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা ঘিরে অস্বস্তিতে ভারতীয় জনতা পার্টি। দু’দফায় অধিকাংশ আসনের প্রার্থী ঘোষণা হতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর। দলের অন্দরে প্রার্থী অসন্তোষ এখন চরমে পৌঁছেছে। শুক্রবারের পর শনিবারও সল্টলেকের পার্টি অফিসে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল-এর বিরুদ্ধে টাকা নিয়ে প্রার্থী বাছাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে দলীয় নেতৃত্ব।
প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই আলিপুরদুয়ারে বিজেপি কার্যালয়ে ভাঙচুর চালান ক্ষুব্ধ কর্মীরা। ময়নাগুড়িতে প্রার্থী বদলের দাবিতে পার্টি অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। হরিণঘাটা, রানাঘাট, বারাকপুর, বজবজ, খড়্গপুর প্রায় সর্বত্র একই ছবি দেখা গিয়েছে। নারায়ণগড়ে রামপ্রসাদ গিরিকে প্রার্থী করায় স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায় এবং খড়্গপুরে জেলা কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও সামনে আসে।
এছাড়াও বেলেঘাটা, এন্টালি, গোসাবা, খণ্ডঘোষ, কুলপি-সহ একাধিক কেন্দ্রে প্রার্থী পছন্দ না হওয়ায় বিক্ষোভে সামিল হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। জগদ্দল, বীজপুর ও চাঁপদানিতেও প্রার্থী ঘোষণার পর অসন্তোষ প্রকাশ পায়। রানাঘাটে জেলা কার্যালয়ে কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি ভাঙচুরের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে জেলা নেতৃত্ব।
অন্যদিকে, হাওড়ার বালিতে প্রার্থী সঞ্জয় সিংকে নিয়ে ক্ষোভের জেরে ভাঙন দেখা দিয়েছে দলে। স্থানীয় কর্মীদের একাংশ ‘ভূমিপুত্র’ প্রার্থী করার দাবিতে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শনিবারও সল্টলেক পার্টি অফিসের বাইরে জড়ো হয়ে কর্মীরা দাবি তোলেন, অগ্রহণযোগ্য প্রার্থীদের অবিলম্বে বদলাতে হবে। তাঁদের অভিযোগ, অন্য দল থেকে আসা নেতাদের অগ্রাধিকার দিয়ে দীর্ঘদিনের কর্মীদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি টাকা লেনদেনের অভিযোগ তুলে সরব হন বিক্ষোভকারীরা।
সব মিলিয়ে নির্বাচনের মুখে প্রার্থী অসন্তোষকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে চাপে পড়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। এই পরিস্থিতি দলের নির্বাচনী কৌশলে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।





