কলকাতা, ১৪ মার্চঃ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড সমাবেশকে ঘিরে শনিবার সকাল থেকেই ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে জমতে শুরু করে ভিড়। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার বিজেপি কর্মী ও সমর্থক সেখানে পৌঁছান। ময়দান জুড়ে দলীয় পতাকা, ব্যানার ও বড় বড় কাটআউটে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ঢাক-ঢোলের তালে সমর্থকদের নাচতেও দেখা যায়। সমাবেশকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হলেও, সভার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায়।
বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ব্রিগেডমুখী মিছিল গিরিশ পার্ক মেট্রো স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছতেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। অভিযোগ, আচমকা শুরু হয় ইট-পাটকেল ছোঁড়াছুড়ি। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায় এবং দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এই সংঘর্ষে এক বিজেপি কর্মী রক্তাক্ত হন বলে দলের দাবি।
তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটে যখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে পুলিশও হামলার মুখে পড়ে। ইট-পাটকেলের আঘাতে এক পুলিশকর্মী আহত হন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ বাহিনীর সামনেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। পরে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ দিয়ে ব্রিগেডের দিকে যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীদের একটি অংশ রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে শুরু করে। সেই সময় মন্ত্রী বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, হামলায় তাঁর দুই কর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছে, গিরিশ পার্ক ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউ মোড়ে তৃণমূল সমর্থকেরাই প্রথমে বিজেপি কর্মীদের একটি বাসে হামলা চালায়। এই ঘটনায় তাঁদের এক সমর্থক আহত হয়েছেন বলেও দাবি গেরুয়া শিবিরের।
সংঘর্ষের জেরে কিছু সময়ের জন্য সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের একটি অংশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় বিপুল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।





