খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১২ মার্চঃ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সংসদের দুই কক্ষ লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রক্রিয়ায় বড় পদক্ষেপ নিল বিরোধী শিবির। তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবে ইতিমধ্যেই কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শরিক দল সমর্থন জানিয়েছে। সূত্রের খবর, প্রস্তাবের পক্ষে প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকেও বেশি সাংসদের স্বাক্ষর ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলিকে একত্রিত করে প্রস্তাব জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। লোকসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনতে ন্যূনতম ১০০ জন সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন হলেও ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩০ জনের বেশি সাংসদ ওই প্রস্তাবে সই করেছেন বলে সূত্রের দাবি।
রাজ্যসভাতেও একই ধরনের চিত্র দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রস্তাব জমা দিতে প্রয়োজন অন্তত ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর। তবে ইতিমধ্যেই ৬০ জনের বেশি সাংসদ প্রস্তাবে সই করেছেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও লোকসভা ও রাজ্যসভায় জমা দেওয়া প্রস্তাবের খসড়ার ভাষায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।
লোকসভায় সাংসদদের স্বাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের উপ-দলনেতা শতাব্দী রায়কে। চলতি সপ্তাহের শুরু থেকেই তিনি সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমর্থন জোগাড়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্ব থেকেই বেশি সংখ্যক সাংসদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছিল।
তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়া জোটের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন চাওয়া হয়নি। তবে শতাব্দী রায়ের উদ্যোগে লোকসভার কয়েকজন নির্দল সাংসদও এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।
অন্যদিকে রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক নাদিমুল হক বিরোধী সাংসদদের সমর্থন সংগ্রহে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। সই সংগ্রহের কাজ সম্পূর্ণ হলে বিরোধীরা সংসদের দুই কক্ষেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব জমা দেবেন। এরপর স্পিকার ও রাজ্যসভার চেয়ারম্যান আলোচনার অনুমতি দিলে বিতর্কের পর ভোটাভুটির মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ হলেও প্রথম ধাপে সফল হয়েছে বিরোধী শিবির।





