খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মার্চঃ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের আলোচনায় উঠে এল পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় বিজেপি নেতা খুনের ঘটনা। ২০২৩ সালে নিহত বিজেপি বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এবার নোটিস পাঠাল এনআইএ। সদ্য বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেওয়া চন্দন মণ্ডলকে কলকাতার এনআইএ দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। এই নোটিসকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
নোটিস পাওয়ার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চন্দন মণ্ডল। তাঁর দাবি, বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়ার মৃত্যুর সময় তিনি বিজেপির সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। সম্প্রতি কলকাতার তৃণমূল ভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দল পরিবর্তনের পরই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে হয়রানি করতে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছে বিজেপি। ময়নার বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছেন, এনআইএ কাকে নোটিস পাঠাবে তা সম্পূর্ণ তদন্তকারীদের বিষয়। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবি করেন। ফলে এই ইস্যুতে দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এলাকা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১ মে ময়নার বাকচার ঘোড়ামহল এলাকায় বিজেপির বুথ সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ ভুঁইয়াকে অপহরণ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী ময়না থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তৃণমূলের ৩৪ জন নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।
পরে কলকাতা হাই কোর্ট-এর নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় এনআইএ। তদন্ত শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এবার বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া নেতাকে তলব করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ভোটের আগে এই মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।





