খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১১ মার্চঃ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আবহে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস-এর পদত্যাগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সফরের ঠিক আগেই তাঁর সরে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার ধর্মতলায় চলা তৃণমূলের ধর্না কর্মসূচি শেষ করার পরই তিনি প্রাক্তন রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক রয়েছে এবং ব্যক্তিগতভাবেও তাঁদের পরিবারের মধ্যে পরিচয় আছে। বাংলার রীতি মেনেই তিনি প্রাক্তন রাজ্যপালের সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, নির্ধারিত পাঁচ বছরের মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও প্রায় দেড় বছর আগেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাও আবার নির্বাচনের ঠিক আগে। মমতার মতে, এই সিদ্ধান্তের পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে এবং সেই কথাই তিনি সরাসরি বোসকে জানিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রপতির বাগডোগরার অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা ছিল প্রাক্তন রাজ্যপালের। সেই উদ্দেশ্যে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিমানও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে দিল্লি থেকে ডাক আসায় তিনি সেখানে যেতে পারেননি এবং পরে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।
প্রাক্তন রাজ্যপালের আচরণ নিয়েও প্রশংসা করেন মমতা। তিনি জানান, বোস রাজভবনে না থেকে অন্যত্র থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তখন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই তাঁকে ‘সৌজন্য’ আবাসনে থাকার অনুরোধ জানান। নতুন রাজ্যপাল এখনও শপথ না নেওয়ায় আপাতত সেখানেই থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এদিকে, নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন আর. এন. রবি । তিনি বর্তমানে তামিলনাড়ু-এর রাজ্যপাল এবং এর আগে নাগাল্যান্ড-এর রাজ্যপাল হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। ১৯৭৬ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা রবীন্দ্র নারায়ণ রবি একসময় ভারতের ডেপুটি ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার হিসেবেও কাজ করেছেন। নাগা শান্তি আলোচনাতেও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।
সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজভবনকে ঘিরে এই ঘটনাপ্রবাহ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে।





