কলকাতা, ১০ মার্চঃ এসআইআর প্রক্রিয়ার পরবর্তী সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন হিংসামুক্তভাবে সম্পন্ন করাই লক্ষ্য নির্বাচন কমিশনের। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এই বার্তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। এই প্রেক্ষাপটে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় কোন কোন থানার ওসি এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিকরা দায়িত্বে ছিলেন, সেই তালিকা রাজ্যের কাছে চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মঙ্গলবার মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চ। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত অফিসারদের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত হয়েছে কি না, তাও জানতে চেয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।
গত রবিবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারসহ কমিশনের ফুলবেঞ্চ বাংলায় আসে। সোমবার থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক শুরু হয়। প্রথমে রাজ্যের ২৩টি জেলার জেলাশাসক, পুলিশ সুপার এবং রাজ্য ও কেন্দ্রের ২৪টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা হয়। এছাড়াও শাসক-বিরোধী সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করে কমিশন।
মঙ্গলবার রাজ্য প্রশাসনের আরও কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিক এবং বিএলওদের সঙ্গেও বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আপাতত সন্তোষজনক। তবে ভোটের সময় কোনও উসকানি বা হিংসা বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ ও মালদহে একাধিক হিংসার ঘটনা সামনে আসে। যদিও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছিল।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ভোটের কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিকদের শুধু কমিশনের নির্দেশ মেনেই কাজ করতে হবে। কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতার নির্দেশে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।





