খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২৩ ফেব্রুয়ারিঃ এক দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান। প্রয়াত হলেন ২১শে জুলাইয়ের আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লড়াকু মুখ ফেলানী বসাক। নদিয়ার শান্তিপুরের বেলঘরিয়া ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ফুলিয়াপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে রাজনৈতিক মহল এবং স্থানীয় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
১৯৯৩ সালের ২১শে জুলাইয়ের ঐতিহাসিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ফেলানী বসাকের পরিবারের উপর ঘটে যাওয়া একটি মর্মান্তিক ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। অভিযোগ, ওই বছর তাঁর মূক ও বধির কন্যা দীপালী বসাক ধর্ষণের শিকার হন। সেই ঘটনার প্রতিবাদে তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র আন্দোলনের ডাক দেন। প্রতিবাদের সেই আবহেই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের কর্মসূচি ঘোষিত হয়, যা পরবর্তীকালে বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ে ফেলানী বসাক ছিলেন এক পরিচিত ও সম্মানিত মুখ। প্রতি বছর ২১শে জুলাই শহীদ দিবসের সমাবেশে তাঁকে সসম্মানে আমন্ত্রণ জানানো হতো। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন সংগ্রামের প্রতীক এবং এক ঐতিহাসিক ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী।
শান্তিপুরের বর্তমান বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী ফেলানী বসাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে তাঁর নাম চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ফেলানী বসাকের প্রয়াণে এক যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছেন অনেকেই।





