খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২২ ফেব্রুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন কলকাতা হাইকোর্ট-এর প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। এদিন এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানান, হাতে সময় অত্যন্ত কম হলেও কাজের পরিধি বিপুল। প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লক্ষ ভোটারের তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব এখন রাজ্যের বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের উপর ন্যস্ত।
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশে এবারের এস আই আর-এ নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের হাতে দেওয়া হয়েছে। কোন কোন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক এই কাজে যুক্ত হবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্বও প্রধান বিচারপতির। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্ধারিত সময়সীমা থাকায় স্বাভাবিকভাবেই চাপ বেড়েছে প্রশাসনের উপর।
গতকাল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং অ্যাডভোকেট জেনারেল। সূত্রের খবর, প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে প্রায় ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে কাজে লাগানো সম্ভব। অন্যদিকে ভারতের নির্বাচন কমিশন-এর প্রস্তাব, প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একজন করে বিচার বিভাগীয় অফিসার নিয়োগ করা হোক।
কমিশন জানিয়েছে, জেলা ও বিধানসভা ভিত্তিক তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা রবিবার দুপুরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সোমবার থেকেই পুরোদমে নথি যাচাইয়ের কাজ শুরু করবেন বিচারকরা। কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় কমিশনের সঙ্গে ফের ভার্চুয়াল বৈঠকে বসতে পারেন প্রধান বিচারপতি।
এদিকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্টের তরফে রাজ্যের সমস্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ছুটি কার্যত বাতিল করা হয়েছে। ৯ মার্চ পর্যন্ত অসুস্থতা ছাড়া অন্য কোনও কারণে ছুটি নেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ জারি হয়েছে। যাঁরা বদলি হয়েছেন, তাঁদের ‘ট্রানজিট লিভ’ও বাতিল করা হয়েছে এবং সোমবারের মধ্যেই কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সমস্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও সেমিনার স্থগিত রাখা হয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা মাথায় রেখে কার্যত যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করতে চলেছে বিচার ব্যবস্থা। তবে মাত্র ২৫০ জন আধিকারিক নিয়ে লক্ষ লক্ষ নথি যাচাই নির্ধারিত সময়ে শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েই এখন প্রশাসনিক ও বিচার মহলে জোর আলোচনা চলছে।





