খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২০ ফেব্রুয়ারিঃ বাবার দাহকার্য সম্পন্ন হয়েছে কয়েক ঘণ্টা আগেই। শোকের ভার যেন আকাশছোঁয়া। তবুও সেই শোক বুকে চেপে সাদা থান পরে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসল এক ছাত্র। হৃদয়বিদারক এই ঘটনা ঘটেছে নদিয়ার হরিণঘাটা পুরসভার আনন্দপুর এলাকায়।
আনন্দপুর হাই স্কুলের কমার্স বিভাগের ছাত্র স্বস্তিক দাস। পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সে। তার পরীক্ষার সিট পড়েছিল এলাকারই বিরোহী নেতাজি বিদ্যাভবন-এ। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার সন্ধ্যায় হঠাৎই মৃত্যু হয় স্বস্তিকের বাবা সুদীপ দাসের। আকস্মিক এই মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে গোটা পরিবার। বৃহস্পতিবার সম্পন্ন হয় দাহকার্য। বাবার শেষকৃত্যে অংশ নেয় স্বস্তিক নিজেই। গুরুদশার নিয়ম মেনে সাদা থান পরে সে।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো এ বছরের পরীক্ষা আর দেওয়া হবে না তার। কিন্তু বাবার স্বপ্নই যেন শক্তি জুগিয়েছে তাকে। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সুদীপ দাস সবসময় চাইতেন ছেলে পরীক্ষায় ভালো ফল করুক এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হোক। সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে শুক্রবার নির্দিষ্ট সময়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে যায় স্বস্তিক।
সাদা থান পরা অবস্থায় তাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে দেখে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অন্যান্য অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। সহপাঠীরা পাশে দাঁড়িয়ে সাহস জুগিয়েছে। পরীক্ষায় বসার ক্ষেত্রে কোনও প্রশাসনিক বাধা আসেনি। কেন্দ্রের তরফেও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দেখানো হয়।
পরীক্ষা শেষে স্বস্তিক জানায়, “বাবা আর ফিরে আসবেন না। কিন্তু বাবা চাইতেন আমি যেন ভালো নম্বর পাই। তাই আমি পরীক্ষায় বসেছি। বাকি পরীক্ষাগুলোও দেব।” তার কণ্ঠে ছিল শোক, আবার দৃঢ়তাও। এই ঘটনায় আবেগে ভেসেছে গোটা এলাকা। কঠিন সময়েও দায়িত্ববোধ ও সংকল্প যে মানুষকে এগিয়ে যেতে শেখায়, স্বস্তিক তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে উঠেছে।





