খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৯ ফেব্রুয়ারি: ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে ফের সরব রাজ্যের শাসকদল। বিজেপির ‘ইশারায়’ জাতীয় নির্বাচন কমিশন কাজ করছে এই অভিযোগ তুলে প্রথমদিন থেকেই প্রতিবাদে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার সেই সুর আরও চড়া করলেন বরানগরের তৃণমূল বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে ‘নির্যাতন কমিশন’ বলে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, মানুষের রায়েই সব কিছুর জবাব মিলবে।
বুধবার বরানগরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের শশীপদ ইনস্টিটিউট লেনে এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সায়ন্তিকা বলেন, “নির্বাচন কমিশন যে নির্যাতন করেছে, তাতে তৃণমূল রবীন্দ্রসঙ্গীত বাজালেও বাংলার মানুষ ভোটবাক্সে ডিজে বাজিয়ে দেবে। মানুষই নিদান দেবে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে মানুষ ঠিক করে নিয়েছে ডিজে বাজাবে।” তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাত এখন মানুষের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
শুধু নির্বাচন কমিশন নয়, বিরোধীদের বিরুদ্ধেও এ দিন তোপ দাগেন তিনি। বরানগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর রাজ্য সরকারের সহায়তায় প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে সব ওয়ার্ডে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। কিন্তু বিরোধীরা সেই উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছেন না বলেই কটাক্ষ করেন তিনি। “ওদের চোখে ছানি পড়েছে,” মন্তব্য সায়ন্তিকার।
এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে রসিকতার সুরে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “ছাব্বিশের নির্বাচনের পর দিদিকে বলব ‘ছানিশ্রী’ প্রকল্প চালু করতে। যাতে বিরোধীদের চোখের ছানি কেটে যায় এবং উন্নয়ন দেখতে পায়।” তাঁর এই মন্তব্যে সভায় উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হাসির রোল ওঠে।
উল্লেখ্য, বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর তুঙ্গে। শাসকদলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখেই এই ইস্যুতে উত্তাপ বাড়ছে।





