খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১৪ ফেব্রুয়ারি: কলেজে পরীক্ষা দিতে গিয়ে টিকিট পরীক্ষকের সঙ্গে সমস্যায় জড়িয়ে পড়ার পর বাড়ি ফিরে আত্মঘাতী হওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মেমারি থানার রসুলপুর এলাকায়। শুক্রবারের এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ২০ বছর বয়সি কলেজছাত্রী জয়শ্রী সরকারের।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জয়শ্রী ছিলেন বর্ধমান উইমেন্স কলেজ-এর ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শুক্রবার তাঁর কলেজে পরীক্ষা ছিল। সেই মতো সকালে রসুলপুর থেকে ট্রেনে করে বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। অভিযোগ, তাড়াহুড়োর কারণে টিকিট কাটতে পারেননি। ট্রেন থেকে নামার পর প্ল্যাটফর্মে টিকিট পরীক্ষকের কাছে টিকিট দেখাতে না পারায় তাঁকে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় এবং জরিমানা করা হয়।
পরিবারের দাবি, জয়শ্রী পরীক্ষার কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও তাঁকে তৎক্ষণাৎ ছাড়া হয়নি। সব প্রক্রিয়া শেষ করতে করতে পরীক্ষার সময় পেরিয়ে যায় এবং তিনি পরীক্ষা দিতে পারেননি। এরপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে দুপুরে বাড়ি ফেরেন।
সেই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। ছাত্রীর মা রিঙ্কু সরকার স্থানীয় প্রশাসনিক কাজে বাইরে ছিলেন এবং বাবা জয়দেব সরকারও কর্মসূত্রে বাড়ির বাইরে ছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে বাবা মেয়েকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। মেধাবী ছাত্রীর এই অকাল মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি স্বরাজ ঘোষ। তিনি বলেন, পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে আরও মানবিক আচরণ করা যেত। তাঁর মতে, “একটু সহানুভূতি দেখানো হলে হয়তো এমন মর্মান্তিক পরিণতি ঘটত না।”
অন্যদিকে, পূর্ব রেল-এর হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার বিশাল কাপুর জানান, বিনা টিকিটে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, টিকিটের মূল্য ছিল ১০ টাকা এবং জরিমানা ২৫০ টাকা। ছাত্রীর কাছে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় কম টাকায় বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা বা অন্য কোনও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝিও ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে আরও মানবিক হওয়া উচিত ছিল। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে নিয়ম প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির গুরুত্ব কতটা। তদন্তের রিপোর্টের দিকেই এখন তাকিয়ে পরিবার ও স্থানীয় মানুষ।





