কলকাতা, ১১ ফেব্রুয়ারিঃ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা ঘটনাকে ঘিরে তদন্তের দায়িত্ব এনআইএ-র হাতেই থাকবে বলে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। ফলে বেলডাঙা ঘটনায় এনআইএ তদন্তের পথ আরও স্পষ্ট হল।
ঘটনার সূত্রপাত ঝাড়খণ্ডে এক পরিযায়ী শ্রমিক খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিহত শ্রমিক মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ছিলেন এবং কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে বেলডাঙায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ, রাস্তা অবরোধ ও রেল অবরোধের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে উঠলে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও আক্রান্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রায় ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরে বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয় এবং প্রয়োজনে এনআইএ তদন্তের সুযোগ রাখে।
হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায়। তবে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে এবং মামলাটি ফের হাইকোর্টেই পাঠিয়ে দেয়। একইসঙ্গে জানানো হয়, ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত কি না, সেই বিষয়টি হাইকোর্টই বিবেচনা করবে।
এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের আবেদন গ্রহণ করেনি এবং হাইকোর্টের নির্দেশ বহাল রেখেছে। তাঁর দাবি, তদন্তের স্বার্থে আদালতের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টের এই অবস্থানের ফলে বেলডাঙা ঘটনার তদন্তে এনআইএ-র ভূমিকা কার্যত নিশ্চিত হল। একইসঙ্গে ইউএপিএ ধারা প্রয়োগের প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন কলকাতা হাইকোর্টের উপরেই নির্ভর করছে। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছেই, পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।





