খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ১০ ফেব্রুয়ারিঃ শীর্ষ আদালতে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ অভিযোগের পর চাপের মুখে কার্যত পিছু হঠল নির্বাচন কমিশন। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্দেশ পাঠানো নিয়ে অবশেষে নিষেধাজ্ঞা জারি করল কমিশন। জানা যাচ্ছে, জেলাগুলিকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— আর কোনও নির্দেশ হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো যাবে না।
এসআইআর (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) প্রক্রিয়া চলাকালীন বিএলও, এইআরও, ইআরও এবং মাইক্রো অবজার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানোর অভিযোগ উঠেছিল কমিশনের বিরুদ্ধে। সেই নির্দেশের ভিত্তিতেই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন আধিকারিকরা এমন অভিযোগ তুলে একাধিকবার নির্বাচন কমিশনে ডেপুটেশন জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশনকে কটাক্ষ করে ‘হোয়াটসঅ্যাপ কমিশন’ বলে আক্রমণ করেন।
এর আগে কমিশনের তরফে দাবি করা হয়েছিল, কাজের সুবিধার্থেই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ সবসময় লিখিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমেই জানানো হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কমিশনকে অবস্থান বদলাতে হল। সূত্রের খবর, এবার থেকে শুধুমাত্র লিখিত নির্দেশিকা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার জন্যই হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যাবে। কোনও প্রশাসনিক বা কার্যকরী নির্দেশ এই মাধ্যম দিয়ে পাঠানো যাবে না।
যদিও কমিশনের অন্দরে অনেকেই মনে করছেন, মুখ্যমন্ত্রীর চাপের মুখে সিদ্ধান্ত বদল হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসআইআর প্রক্রিয়ায় একের পর এক ঘটনায় শীর্ষ আদালতে কমিশন প্রশ্নের মুখে পড়ায় বিড়ম্বনা এড়াতেই এই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ কিছুটা পিছিয়ে যাচ্ছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১ কোটি ৩৯ লক্ষ শুনানি শেষ হয়েছে এবং ১ কোটি ৬ লক্ষ নথি আপলোড করা হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের চেষ্টা করা হবে। তালিকা প্রকাশের পর কোনও ভোটারের নাম বাদ পড়লে, প্রথমে ৫ দিনের মধ্যে ডিইও এবং পরে সিইও-র কাছে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।





