কলকাতা, ৯ ফেব্রুয়ারিঃ পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিংসা ও অশান্তির অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েত ভবনে এসআইআর শুনানি না করার আর্জি জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ডেরেক ও’ ব্রায়েন এবং দোলা সেনের দায়ের করা মামলায় সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া পাল্টা হলফনামায় কমিশন জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত স্তরে শুনানি চালানোর মতো উপযুক্ত আইনশৃঙ্খলাগত পরিবেশ নেই।
হলফনামায় কমিশনের দাবি, ইটাহার, ফারাক্কা, চাকুলিয়া-সহ একাধিক জায়গায় সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনা প্রশাসনিক কাজকর্মের ক্ষেত্রে গুরুতর নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। মাইক্রো অবজারভার, বিএলও এবং কমিশনের আধিকারিকরা নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পঞ্চায়েত ভবনে শুনানি হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হতে পারে বলে কমিশনের মত। শনিবার এসআইআর শুনানির শেষ দিনে এই হলফনামা জমা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ তৃণমূল কংগ্রেসের আবেদনের ভিত্তিতে পঞ্চায়েত ভবনে শুনানি করার নির্দেশ দিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক হিংসার প্রেক্ষাপটে সেই নির্দেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে ভোটারদের স্বার্থে শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুনানির জন্য তলব করা অবৈধ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৩১,৬৮,৪২৬। একাধিকবার নোটিস পাঠানো সত্ত্বেও প্রায় ৫০ হাজারের কিছু বেশি ভোটার উপস্থিত হননি। ফলে মোট ১.৫৭ শতাংশ ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।





