খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ৪ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় নামের বানান বিভ্রাট ও তথ্যগত অসঙ্গতির জেরে সাধারণ মানুষের হয়রানির বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। বুধবার শীর্ষ আদালতে এসআইআর সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। সেই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ফলে স্থানীয় ভাষাজনিত সমস্যার কথাও স্বীকার করেন প্রধান বিচারপতি।
শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি নিজেই সওয়ালে অংশ নেন। সেই সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনার পিটিশনে যে বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে স্থানীয় ভাষার কারণে যে সমস্যা হচ্ছে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এই বিষয়ে আমরা কোনও সমাধানসূত্র বের করার চেষ্টা করব।”
এই প্রসঙ্গে মমতার আইনজীবী শ্যাম দেওয়ানও নাম বিভ্রাটের বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, গাঙ্গুলি, রায় বা চ্যাটার্জির মতো পদবি বাংলায় একভাবে লেখা হলেও ইংরেজি তর্জমায় বানান বদলে গিয়েছে। ফলে এই সমস্যাকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি’ হিসেবে দেখা যায় না। সেই প্রেক্ষিতেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “এই সব দিক মাথায় রেখেই বলছি, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যেন বাদ না যায়।”
সওয়াল করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এসআইআর কার্যত নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। শুধু পদবি নয়, বিয়ের পর মহিলাদের নাম বদল বা বসবাসের স্থান পরিবর্তনের কারণেও বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। মমতার দাবি, ভোটের মুখে বাংলাকে নিশানা করা হচ্ছে। চার রাজ্যে ভোট থাকলেও শুধু বাংলায় কেন তাড়াহুড়ো করে তিন মাসের মধ্যে এসআইআর শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষ অসুস্থ হয়েছেন, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত ঘটেছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট মন্তব্য করেন, “এভাবে চলতে পারে না।” গোটা শুনানিতেই আদালতের মূল বার্তা ছিল এসআইআর প্রক্রিয়ায় মানবিক ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি জরুরি, যাতে কোনও প্রকৃত ভোটার বঞ্চিত না হন।





