খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সোমবার দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে বেরোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া মন্তব্য,“এরকম মিথ্যাবাদী নির্বাচন কমিশন আমি কখনও দেখিনি। বহুদিন রাজনীতি করছি, কিন্তু এমন ঔদ্ধত্য আগে দেখিনি।” তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে এবং তার ফলে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের সামনে প্রমাণ হিসেবে রাজধানীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অন্তত ৫০ জন এমন ভোটারকে, যাঁরা জীবিত থাকা সত্ত্বেও কমিশনের নথিতে ‘মৃত’ বলে চিহ্নিত। পাশাপাশি, এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে মানসিক চাপ, হয়রানি ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগ থাকা আরও ৫০টি পরিবারের প্রতিনিধিদেরও দিল্লিতে আনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ইস্যুতেই সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের দফতরে যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এসআইআর-এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বলে দাবি করা কয়েক জন ভোটার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সরাসরি কমিশনের সামনে হাজির করানো হয়। তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়ে কমিশনের কাছে জবাবদিহি চায় তৃণমূল।
সোমবারের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ উপস্থিত ছিল। বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ আরও দুই নির্বাচন কমিশনার অংশ নেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অনিয়ম, ইচ্ছাকৃত বাদ দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রশাসনিক হয়রানি চালানো হচ্ছে। এর ফলে বহু প্রকৃত ভোটার ভোটাধিকার হারানোর আশঙ্কায় ভুগছেন বলে দাবি করা হয়।
বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে তারা স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবিলম্বে সংশোধনীমূলক পদক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই লড়াই চালিয়ে যাব।” যদিও কমিশনের তরফে এখনও কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে এসআইআর ঘিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত যে আরও তীব্র হচ্ছে, তা স্পষ্ট।





