খবরিয়া ২৪ ডেস্ক, ২ ফেব্রুয়ারিঃ শীতের দিল্লির রাজপথে সোমবার এক ব্যতিক্রমী রাজনৈতিক ছবি। পরনে সাদা শাড়ি থাকলেও কাঁধ থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে রাখা কালো চাদর। একই কালো চাদরে আবৃত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গী তৃণমূলের সাংসদ, নেতা এবং এসআইআর-এ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সদস্যরাও। সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ইস্যুতে সরাসরি দিল্লির নির্বাচন কমিশনের দপ্তর নির্বাচন সদনে পৌঁছলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই কালো চাদর কেবল পোশাক নয়, বরং এক প্রতীকী প্রতিবাদ। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, বাংলায় এসআইআর-এর নামে কার্যত ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাইয়ের খেলা চলছে। এর ফলে রাজ্যে অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি তাঁর। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে এনআরসি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই অভিযোগ জানিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ছ’বার চিঠি লিখেও কোনও সদুত্তর না পাওয়ায় এবার নিজেই সরাসরি তাঁর মুখোমুখি হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচন সদনের বাইরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। শতাধিক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কালো পোশাক গায়ে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন সদনে প্রবেশ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দেখা যায় আইনের বই। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে নিয়ে যান তিনজন মৃত বিএলও-র পরিবার এবং এসআইআর আতঙ্কে মৃত আটজন ব্যক্তির পরিজনদের।
এই বৈঠকের আগে সোমবার সকালেই উত্তেজনা ছড়ায় বঙ্গভবন চত্বরে। চাণক্যপুরী ও হেইলি রোডের বঙ্গভবন ঘিরে দিল্লি পুলিশের তল্লাশির অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়েই কার্যত ‘এক কাপড়ে’ নিজের বাসভবন থেকে বেরিয়ে বঙ্গভবনে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। দিল্লি পুলিশের আচরণের প্রতিবাদে গর্জে ওঠেন তিনি এবং গোটা ঘটনার নেপথ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে কাঠগড়ায় তোলেন। শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর কড়া অবস্থানের জেরে বঙ্গভবন ছাড়ে দিল্লি পুলিশ।
এসআইআর ইস্যুতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই কালো পোশাকে নির্বাচন সদনে মমতার উপস্থিতি কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাতকে আরও তীব্র করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। আগামী দিনে এই ইস্যুতে আন্দোলন আরও জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।





