কলকাতা, ২০ জানুয়ারিঃ এসআইআর শুনানি ঘিরে রাজ্যের নানা প্রান্তে যখন ক্ষোভ ও বিক্ষোভ অব্যাহত, ঠিক সেই সময় নির্বাচন কমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ভোটার তালিকা সংক্রান্ত নথি হিসেবে আর গ্রাহ্য হবে না। এই সিদ্ধান্তে বিজেপি বাদে প্রায় সব রাজনৈতিক দলই সরব হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই শুনানিতে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন, তাঁদের কী হবে?
এই বিভ্রান্তির মধ্যেই দ্বিধাগ্রস্ত ভোটারদের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন।কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, মূলত যাঁদের ক্ষেত্রে ‘নো ম্যাপিং’ বা এনুমারেশন ফর্মে তথ্যের অসংগতি রয়েছে, তাঁদেরই এসআইআর শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। এমন বহু ভোটার শুনানিতে নথি হিসেবে শুধুমাত্র মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। যেহেতু ওই নথি আর গ্রহণযোগ্য নয়, তাই সংশ্লিষ্ট ভোটারদের নতুন করে বৈধ নথি জমা দিতে হবে।
কমিশন জানিয়েছে, ভোটাররা সশরীরে এসআইআর কেন্দ্রে গিয়ে অথবা নিজেদের বিএলও-র কাছে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও নথি জমা দিতে পারবেন। তবে হোয়াটসঅ্যাপে নথি পাঠানোর আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিএলও-র সঙ্গে কথা বলে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমা দেওয়া নথি যাচাই-বাছাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর প্রক্রিয়া। ২০০২ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি ধরে এই সংশোধনের কাজ চলছে, কারণ ওই বছরই শেষবার নিবিড় সংশোধন হয়েছিল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা-সহ ১২টি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে বা কোনও অসংগতি থাকলে শুনানিতে গিয়ে উপযুক্ত নথি জমা দিয়ে আবেদন জানাতে পারবেন ভোটাররা।
ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য মোট ১৩টি নথির কথা জানিয়েছিল কমিশন, যার মধ্যে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড ছিল না। তবু এতদিন তা গ্রহণ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করে সেই নথি বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।





