বারাসাত, ১৯ জানুয়ারিঃ ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বারাসাতের রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ, ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর), বিজেপির ধর্মীয় রাজনীতি থেকে শুরু করে বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতিকে অবমাননার অভিযোগ—একাধিক ইস্যুতে চড়া সুরে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। অভিষেকের স্পষ্ট বার্তা, “এই নির্বাচন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের নির্বাচন। বিজেপিকে শাস্তি দেওয়ার নির্বাচন।”
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথমেই তিনি সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানির প্রসঙ্গ তোলেন। অভিষেকের অভিযোগ, ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র অজুহাতে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করেছিল নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ায় মূলত গরিব ও বয়স্ক মানুষদের নিশানা করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে এবং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তা টাঙাতে হবে। শুনানির সময় বিএলএ-২ প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ও রসিদ দেওয়াও বাধ্যতামূলক।” এই রায়কে ‘মা-মাটি-মানুষের জয়’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, “বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টার জবাবে সুপ্রিম কোর্ট বিজেপিকে দু’গালে কষিয়ে থাপ্পড় মেরেছে।”
বিজেপি নেতৃত্বের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কে অজ্ঞতাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলছেন, যেন ছোটবেলায় একসঙ্গে ক্যারাম খেলতেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথের নাম ভুল উচ্চারণ করছেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি কবিগুরুর জন্মস্থান জানেন না।” তাঁর সংযোজন, যারা বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে বা মা দুর্গার বংশপরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তাদের ব্যালটেই জবাব দেবে বাংলা।
ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধেও সরব হন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যে ধর্ম মানবতা শেখায়, সেখানে একজন চিকেন প্যাটিস বিক্রেতাকে পিটিয়ে মারা হয় কোন হিন্দু ধর্মে? আমরা স্বামী বিবেকানন্দের হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করি, যোগী আদিত্যনাথের হিন্দু ধর্মে নয়।” মুসলিম ব্যবসায়ীদের থেকে খাবার না কেনার বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই মাটি সম্প্রীতির মাটি।”
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে অভিষেক ভোটারদের উদ্দেশে কৌশলী বার্তা দেন। তাঁর কথায়, “বিজেপি টাকা দিতে এলে নেবেন, কারণ ওটা আপনারই টাকা। কিন্তু ভোট দেবেন জোড়াফুলেই।” শেষ পর্যন্ত তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেন, “তৃণমূল ২৫০-র বেশি আসনে জিতবে, বিজেপিকে ৫০-এর নিচে নামিয়ে আনব।”





