শিলিগুড়ি, ৫ নভেম্বরঃ সারা বছর খবরের পিছনে ছোটা। কখনও রাজনৈতিক টানাপড়েন, কখনও অপরাধ, কখনও বা উৎসবের রং ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেরাই কখন যে উৎসবের আনন্দ থেকে দূরে সরে যান, তা টের পাওয়ার অবকাশ থাকে না সাংবাদিকদের। পুজোর দিনেও কারও হাতে ক্যামেরা, কারও হাতে মাইক্রোফোন, কেউ আবার খবরের সন্ধানে ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। সেই ব্যস্ততার মাঝেই নিজেদের জন্য একটু আনন্দের অবসর তৈরি করে নিয়েছেন শিলিগুড়ি জার্নালিস্ট ক্লাবের সাংবাদিকেরা। তাঁদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘আমরা সবার মায়ের সন্তান’-এর কালীপুজো এ বার পা দিল দশম বর্ষে।
বৃহস্পতিবার খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে গেল দশম বর্ষের পুজোর প্রস্তুতি। খুঁটিপুজোকে ঘিরে উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। প্রতি বছরের মতো এ বারও মহাসমারোহে কালীপুজোর আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে উদ্যোক্তাদের। ইতিমধ্যেই পুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতিপর্ব।
আসলে এই পুজো শুধুই দেবী আরাধনার আয়োজন নয়, সাংবাদিকদের পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি উপলক্ষও। সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের কাজের ধরনটাই এমন যে, বছরের অধিকাংশ সময় তাঁদের কাটে খবরের পিছনে। সকাল থেকে রাত, কখনও তারও পরে, পেশাগত দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে ওঠে। উৎসবের দিনগুলিতেও সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি মেলে না।
সেই বাস্তবতার মধ্যেই একটু অন্য রকম ভাবনা থেকে এই পুজোর সূচনা। কাজের চেনা পরিসরের বাইরে এসে সহকর্মীদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা এবং উৎসবের আবহে একসঙ্গে সময় কাটানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পুজোকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের মধ্যে তৈরি হয় এক আন্তরিক মিলনক্ষেত্র। পেশাগত ব্যস্ততা ভুলে সেখানে সবাই হয়ে ওঠেন উৎসবের সঙ্গী।
নামেই যেন সেই পুজোর দর্শন ‘আমরা সবার মায়ের সন্তান’। দেখতে দেখতে দশটি বছরে পা দিতে চলেছে এই আয়োজন। খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে সেই দীর্ঘ পথচলার নতুন অধ্যায় শুরু হল। এখন অপেক্ষা শ্যামা মায়ের আরাধনার।





