হুগলি, ৪ নভেম্বরঃ নাম বদলেছে প্রকল্পের। বদলেছে সরকারেরও। এ বার সেই প্রকল্পের হাত ধরেই কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে চলেছে রাজ্যের নতুন সরকার। বৃহস্পতিবার হুগলির পরশুড়ার সভা থেকে প্রায় ৫০ লক্ষেরও বেশি নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে আর্থিক সহায়তা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে এই অর্থ হস্তান্তর কর্মসূচি ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, আলুচাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজের ঘোষণাও হতে পারে ওই সভা থেকে। আর সেই আশাতেই এখন দিন গুনছেন হুগলি-সহ রাজ্যের আলুচাষিরা।
রাজ্যে পালাবদলের পর পূর্বতন তৃণমূল সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম বদলে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় নতুন সরকার। এই প্রকল্পে ইতিমধ্যেই দু’টি কিস্তিতে মোট চার হাজার টাকা পেয়েছেন কৃষকেরা। বাকি অর্থ রাজ্যের তরফে মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়েছিলেন, পরশুড়ার সভা থেকেই সেই টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। সেই প্রতিশ্রুতি ঘিরেই বৃহস্পতিবারের কর্মসূচির দিকে নজর রয়েছে কৃষক মহলে।
কিন্তু আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আলুচাষিদের সমস্যাও এ বার বড় হয়ে উঠেছে। গত কয়েক বছরে আলুর দাম না মেলায় বহু চাষি লোকসানের মুখে পড়েছেন। উৎপাদন খরচ, শ্রমিকের মজুরি, সার-বীজের দাম সব মিলিয়ে চাষের খরচ বেড়েছে। তার উপর হিমঘরে আলু মজুত রেখেও অনেক চাষি আশানুরূপ দাম পাননি। এখনও বহু হিমঘরে আলু পড়ে রয়েছে। সংরক্ষণের খরচ জোগাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে। ফলে নতুন করে চাষে নামার আগে সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় তাঁরা।
পরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ জানিয়েছেন, আলুচাষিদের সমস্যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য চেয়েছিলেন। সেই তথ্য জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, শুধু আলুচাষিদের জন্যই নয়, সামগ্রিক ভাবে কৃষকদের জন্যও বড় ঘোষণা হতে পারে। ফলে বৃহস্পতিবারের সভা ঘিরে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে।
ইতিমধ্যেই সভাস্থলে প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। মূল মঞ্চের সামনে তৈরি হয়েছে তিনটি শেড। ৪০ হাজার চেয়ার রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক ও সাধারণ মানুষকে নিয়ে আসতে কয়েকশো বাসের ব্যবস্থাও করেছে প্রশাসন। নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে সভাস্থল। এখন দেখার, আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আলুচাষিদের দীর্ঘদিনের ক্ষতে কতটা প্রলেপ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।





