কলকাতা, ৪ নভেম্বরঃ গ্রামবাংলার প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় বদল আনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন দরজা খুলতে চাইছে রাজ্য সরকার। পঞ্চায়েত দপ্তরে প্রায় ৭ হাজার ১৯০টি শূন্যপদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আগামী বছরের এপ্রিলের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন নিয়ম চালুর পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে পাবলিক সার্ভিস কমিশনকে (পিএসসি)। স্থায়ী পদের পাশাপাশি আরও এক হাজার অস্থায়ী কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
বুধবার পঞ্চায়েত ভবনে দপ্তরের কাজকর্ম এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল-সহ দপ্তরের আধিকারিকেরা। রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক এবং ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকেরাও বৈঠকে যোগ দেন। সেখানেই নিয়োগের বিষয়টি সামনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে নতুন নিয়োগ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে নতুন বিধি তৈরি করা হবে। দীপাবলির পর বিশেষ অধিবেশন ডেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথাও ভাবছে সরকার।
শুধু কর্মী নিয়োগ নয়, পঞ্চায়েত দপ্তরের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউটাউনে নতুন বিধানসভা ভবনের জন্য প্রস্তাবিত জমির পাশেই পাঁচ একর জায়গায় তৈরি হবে নতুন পঞ্চায়েত ভবন। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, আধুনিক পরিকাঠামো-সহ এই ভবন গড়ে তোলা হবে।
বৈঠকে ১২৫ দিনের কাজ এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজনার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দৈনিক ২২ লক্ষ মানুষ ১২৫ দিনের কাজ পাচ্ছেন। প্রকল্পে মোট ১৩ হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রের দেওয়ার কথা ৮ হাজার কোটি এবং রাজ্যের অংশ ৫ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় কেন্দ্র ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও দাবি, নতুন করে ১০ লক্ষ জব কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে।
আধার ও কেওয়াইসি যাচাইয়ের পরে ৩১ লক্ষ ভুয়ো জব কার্ড বাতিল হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, আগামী দু’বছরের মধ্যে গ্রামের সামগ্রিক পরিকাঠামোয় বদল আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। নিয়োগ থেকে গ্রামীণ উন্নয়ন দু’দিকেই নজর রেখে নতুন পরিকল্পনার পথে হাঁটতে চাইছে রাজ্য।





