কলকাতা, ৪ নভেম্বরঃ বাইরে থেকে চালের ব্যবসা। কিন্তু সেই ব্যবসার আড়ালেই কি চলছিল কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা কারবার? সেই সন্দেহেই বুধবার সাতসকালে দক্ষিণ কলকাতার কামালগাজিতে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি ও অফিসে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় একযোগে চারটি জায়গায় তল্লাশি শুরু করেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রে খবর, গুয়াহাটির একটি মামলার তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতেই এই অভিযান।
তদন্তকারীদের নজরে কামালগাজির ব্যবসায়ী শ্যামল ব্যাপারী। ইডি সূত্রের অভিযোগ, চালের ব্যবসাকে সামনে রেখে ইন্টারনেটের মাধ্যমে হাওয়ালার লেনদেন চালাতেন তিনি। সেই কারবারের অঙ্ক কয়েক কোটি টাকা বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের। তবে ঠিক কী ভাবে এই লেনদেন চলত, তার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
বুধবার সকালে প্রথমে লেকটাউনের একটি জায়গায় অভিযান চালান ইডি আধিকারিকেরা। পরে তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামালগাজির ব্যবসায়ীর বাড়ি ও অফিস-সহ সংশ্লিষ্ট অন্য জায়গাগুলিতে পৌঁছন তাঁরা। চারটি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়। বাড়ি ও অফিসের নথিপত্র খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ব্যবসায়িক লেনদেনের হিসাবও পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা।
এই তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল লেনদেনের সূত্র। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, চালের ব্যবসার আড়ালে বিপুল অর্থের লেনদেন হয়েছে কি না, তা জানতে বিভিন্ন নথি, ব্যাঙ্কের হিসাব এবং ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গুয়াহাটির মামলায় সাইবার প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে হাওয়ালার পথে ঘোরানো হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
সন্দেহভাজন কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনও খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকেরা। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রের খবর।
গুয়াহাটির মামলার সূত্র ধরে কলকাতার উপকণ্ঠে এই অভিযান নতুন করে আর্থিক লেনদেনের আড়ালে সম্ভাব্য অপরাধচক্রের যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে শ্যামল ব্যাপারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। তল্লাশিতে কী কী নথি বা তথ্যপ্রমাণ মিলেছে, এবং এই ঘটনায় আর কারও যোগ পাওয়া যায় কি না, এখন সেদিকেই নজর তদন্তকারীদের।





