মুর্শিদাবাদ, ৪ নভেম্বরঃ সিআইডি ইনস্পেক্টরের গুলিতে সামাউল হকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বিশেষ দল (সিট) গঠন করল রাজ্য পুলিশ। গত ২৭ অক্টোবর সামশেরগঞ্জে খুনের ঘটনার পুনর্নির্মাণ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় ৪০ বছর বয়সি সামাউলের। তিনি বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডল খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। এই মৃত্যুকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল মৃতের পরিবার। ঘটনার তদন্তে এ বার পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিট গঠনের নির্দেশ কার্যকর হয়। দলে রয়েছেন ফরাক্কার এসডিপিও দিবেন্দু তামাং, সুতির এসআই অভিজিৎ সরকার ও নিলেশ চন্দ্র সরকার, সামশেরগঞ্জ থানার এসআই মিঠুন হালদার এবং জঙ্গিপুর মহকুমার সার্কেল ইনস্পেক্টর স্বরূপ বিশ্বাস। এত দিন মামলার তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। রাজ্য পুলিশের ডিআইজি (মুর্শিদাবাদ রেঞ্জ) অজিত সিংহ যাদব জানিয়েছেন, রাজ্যের নির্দেশেই এই সিট গঠন করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়েছিল।
ঘটনার পরেই সামশেরগঞ্জ থানায় এফআইআর দায়ের করেন সিআইডি ইনস্পেক্টর অক্ষয় পাল। তবে সামাউলের মৃত্যুকে ঘিরে পরিবারের বক্তব্য ভিন্ন। নিহতের স্ত্রী রাজেদা খাতুনের দাবি, এখনও পর্যন্ত তদন্তের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করেনি। তাঁরা কোনও পাল্টা অভিযোগও দায়ের করেননি। দুই নাবালক সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে প্রশাসনের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখনও কোনও আশ্বাস পাননি বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, মানবাধিকার কর্মীরা সামাউলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও আইনি পথে এগোনোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি পরিবার।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অগস্ট ধুলিয়ানের বিজেপি কর্মী সুজিত মণ্ডলকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন সামাউল। ২৭ অক্টোবর ঘটনার পুনর্নির্মাণের সময় তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টার সময় গুলি চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, পরিবারের দাবি, পালানোর গল্প ভিত্তিহীন এবং এটি পরিকল্পিত এনকাউন্টার। এই পরস্পরবিরোধী দাবির মধ্যেই সিটের তদন্তে এখন নজর রয়েছে।





