কোচবিহার, ৪ নভেম্বরঃ শহরের রাস্তায় বাইকের দাপটের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল বিকট শব্দের অত্যাচার। একটু অসতর্ক হলেই কানে তালা ধরিয়ে দেওয়া আওয়াজ। কখনও গভীর রাতে, কখনও ব্যস্ত রাস্তায় আচমকা সেই শব্দে চমকে উঠছিলেন পথচারী থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে মডিফাই করা সাইলেন্সার লাগানো বাইকের দৌরাত্ম্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরক্তির অভিযোগ উঠছিল। এ বার সেই শব্দ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল কোচবিহার জেলা পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা প্রায় ১০০টি মডিফাই সাইলেন্সার রোলার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হল।
বুধবার কোচবিহার শহরের সুনীতি রোড সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন সময়ে ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে আটক করা বাইক থেকে খুলে নেওয়া হয়েছিল অবৈধ ভাবে লাগানো মডিফাই সাইলেন্সারগুলি। দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি বাজেয়াপ্ত অবস্থায় ছিল। এ দিন সেগুলিকেই রোলারের সাহায্যে সম্পূর্ণ ভাবে নষ্ট করে দেওয়া হয়।
শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বিকট শব্দে বাইক চালানোর অভিযোগ নতুন নয়। বিশেষ করে পরিবর্তিত সাইলেন্সার লাগিয়ে শব্দের মাত্রা বাড়িয়ে নেওয়ার প্রবণতায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। শব্দদূষণের পাশাপাশি এই ধরনের বাইক চলাচল নিয়ে নিরাপত্তার প্রশ্নও উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিক বার অভিযান চালিয়েছে কোচবিহার সদর ট্রাফিক পুলিশ। সেই অভিযানে আটক করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বাইক এবং খুলে নেওয়া হয়েছে নিয়মবহির্ভূত সাইলেন্সার। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ডিএসপি ট্রাফিক বিক্রম প্রসাদ, ট্রাফিক ওসি সুরেশ দাস, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর-সহ পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকেরা।
পুলিশের বক্তব্য, শহরের রাস্তায় নিয়মবহির্ভূত মডিফাই সাইলেন্সারের ব্যবহার কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শুধু বাজেয়াপ্ত সামগ্রী নষ্ট করাই নয়, আগামী দিনেও এ ধরনের বাইকের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। নিয়ম ভেঙে বিকট শব্দ তৈরি করে সাধারণ মানুষের অসুবিধা সৃষ্টি করলে সংশ্লিষ্ট বাইকচালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শহরের শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন অনেকেই। তবে অভিযান কতটা ধারাবাহিক হয়, এখন সেটাই দেখার।





