মাথাভাঙা, ৪ নভেম্বরঃ রাতের অন্ধকারে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। সঙ্গে ছিল দিনের ব্যবসার সোনা ও রুপোর সামগ্রী। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতেই বাইকে চেপে হাজির তিন দুষ্কৃতী। পথ আটকে প্রথমে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর, তার পর সোনা-রুপোর সামগ্রী ছিনতাই করে পালানোর অভিযোগ। বাধা পেয়ে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয় বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার রাতে মাথাভাঙা-১ ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রামের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রকাশ সরকার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নয়ারহাট বাজারে সোনার দোকান রয়েছে প্রকাশবাবুর। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার রাতেও দোকান বন্ধ করে সোনা ও রুপোর সামগ্রী নিয়ে সাইকেলে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছতেই তাঁর পথ আটকায় বাইকে আসা তিন দুষ্কৃতী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই লোহার রড দিয়ে তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। মারধরের পর সঙ্গে থাকা সোনা ও রুপোর সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। সেই সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগও উঠেছে।
রক্তাক্ত অবস্থায় ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে প্রথমে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে মাথাভাঙা থানার পুলিশ। সেখান থেকে গুলির খোলসের মতো একটি বস্তু উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দুষ্কৃতীরা কত পরিমাণ সোনা ও রুপোর সামগ্রী নিয়ে গিয়েছে, হামলার পিছনে পূর্বপরিকল্পিত ছক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
তবে দিনের শেষে এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি বলে খবর। পুলিশের তরফেও আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্বর্ণ ব্যবসায়ীর উপর এমন হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করতে পুলিশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সূত্র খতিয়ে দেখছে কি না, সেদিকেও নজর স্থানীয়দের।





