কলকাতা, ৩০ অক্টোবরঃ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের ফাইল আর শুধু চিঠি বা ই-মেলের আদানপ্রদানে আটকে থাকবে না। প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে এবং প্রশাসনিক জট কাটাতে এ বার সরাসরি দিল্লির দরবারে যেতে হবে রাজ্যের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের। মাসে অন্তত এক বার দিল্লি সফর করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করতে হবে তাঁদের। কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় বাড়িয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে এমনই উদ্যোগী হয়েছে নবান্ন।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ এবং প্রযুক্তিগত ছাড়পত্র পেতে বিভিন্ন সময়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে রাজ্যকে। তার জেরে একাধিক প্রকল্পের কাজ দীর্ঘদিন ধরে থমকে রয়েছে বলে অভিযোগ। কোথাও ফাইল আটকে, কোথাও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অপেক্ষায় পড়ে রয়েছে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপ। এই পরিস্থিতি বদলাতেই সচিবদের সরাসরি কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নবান্নের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সচিবদের প্রতি মাসে অন্তত এক বার দিল্লি যেতে হবে। সেখানে প্রকল্পের বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে হবে। কোন প্রকল্পে কী সমস্যা তৈরি হয়েছে, কোথায় অনুমোদন বা অর্থ বরাদ্দ আটকে রয়েছে, প্রযুক্তিগত ছাড়পত্র পেতে কী বাধা আসছে সব কিছু চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে চলতি প্রকল্পগুলির অগ্রগতিও পর্যালোচনা করতে হবে।
এক প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, আগে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ না এগোনোর জন্য কেন্দ্রের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠত। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্প হোক বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও বিষয় সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্র ও রাজ্যকে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে। শুধু চিঠি পাঠিয়ে বা ই-মেল করেই দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে সমস্যার নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রশাসনিক মহলের মতে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য প্রকল্পের ফাইলের গতি বাড়ানো এবং বাস্তবায়নের পথে বাধা সরানো। কেন্দ্র-রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের বাইরে গিয়ে প্রশাসনিক সমন্বয় কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার। সচিবদের দিল্লি সফর শেষ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজকে কতটা গতি দিতে পারে, তার দিকেই নজর প্রশাসনিক মহলের।





