আবহাওয়া আইপিএল-2025 টাকা পয়সা পশ্চিমবঙ্গ ভারত ব্যবসা চাকরি রাশিফল স্বাস্থ্য প্রযুক্তি লাইফস্টাইল শেয়ার বাজার মিউচুয়াল ফান্ড আধ্যাত্মিক অন্যান্য

---Advertisement---

৪০ বছরের বসত, হাতে মাত্র ১০ দিন! কোচবিহারে রেলবস্তি উচ্ছেদের নোটিশে দিশাহারা ৫০ পরিবার

Published on: October 29, 2026
---Advertisement---

কোচবিহার, ২৯ অক্টোবরঃ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানেই সংসার পেতেছেন তাঁরা। কারও ভরসা টোটো চালানো, কেউ দিনমজুরি করে কোনও রকমে চালান সংসার। সেই চেনা ঠিকানা ছেড়ে এবার কোথায় যাবেন? কোচবিহার স্টেশন সংলগ্ন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রেলবস্তিতে উচ্ছেদের নোটিশ ঘিরে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে বাসিন্দাদের মনে। তাঁদের অভিযোগ, রেলের পক্ষ থেকে জায়গা খালি করার জন্য মাত্র ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। আর তাতেই মাথায় হাত কয়েক দশক ধরে সেখানে বসবাসকারী প্রায় ৫০টি পরিবারের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলবস্তির বহু পরিবার ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছে। দীর্ঘদিনের বসতভিটে, পরিচিত প্রতিবেশী এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁদের নানা স্মৃতি। কিন্তু সম্প্রতি রেলের তরফে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জায়গা খালি না করলে উচ্ছেদ করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে, দাবি তাঁদের।

নোটিশের খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়। পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় মিলবে, কী ভাবে নতুন করে ঘর বাঁধবেন, তা ভেবেই দিশাহারা অনেকে। যাঁদের রোজগার নির্ভর করে প্রতিদিনের কাজের উপর, তাঁদের কাছে অল্প সময়ের মধ্যে অন্যত্র চলে যাওয়ার ব্যবস্থা করাও কার্যত বড় চ্যালেঞ্জ। মাথার উপর ছাদ হারানোর আশঙ্কার পাশাপাশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাঁদের ভবিষ্যৎও।

এই পরিস্থিতিতে উচ্ছেদের নোটিশের প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখান রেলবস্তির বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলিকে মাত্র ১০ দিনের মধ্যে বাড়ি ছাড়তে বলা হলে তাঁরা বিপাকে পড়বেন। তাই অবিলম্বে উচ্ছেদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে আরও সময় দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি, বিকল্প ব্যবস্থা করার বিষয়টিও বিবেচনা করার আবেদন জানিয়েছেন বাসিন্দারা।

জেলা প্রশাসন, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্থানীয় বিধায়কের কাছেও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা। বাসিন্দাদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের বসবাস এবং পরিবারগুলির আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমস্যার সমাধান করা হোক।

তবে এই নোটিশ ঘিরে শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল কর্তৃপক্ষের অবস্থান এবং প্রশাসনের ভূমিকার দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন বাসিন্দারা। চার দশকের চেনা ঠিকানা কি ছাড়তেই হবে, নাকি মিলবে আরও কিছুটা সময় সেই উত্তর খুঁজছেন কোচবিহারের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের রেলবস্তির পরিবারগুলি। আপাতত তাঁদের দিন কাটছে উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চয়তার মধ্যে।

Manirul Hoque

Manirul Hoque is working as Sub Editor. Presently he is attached with Khaboriya24 Online News Portal. Manirul is involved in Copy Editing, Uploading in website.

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now

Leave a Comment