বিহার, ২৮ অক্টোবরঃ ট্রেনের কামরা থেকে আচমকা উধাও। ঘণ্টা দুয়েকের অপেক্ষা, তার পর খোঁজ মিলল রেললাইনের পাশে। প্রশান্ত কিশোরের জন সূরজ পার্টির সঙ্গে যুক্ত মিডিয়া ম্যানেজার দেবপালিক গুপ্তার অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ৩১ বছরের ওই যুবকের দেহ ঝাড়খণ্ডে উদ্ধার হওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারের রাজনৈতিক মহলে। মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। দুর্ঘটনা, না কি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে জন সূরজও।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাঁচি থেকে পাটনাগামী জন শতাব্দী এক্সপ্রেসে সফর করছিলেন দেবপালিক। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দুই বন্ধু। দুপুর আড়াইটে নাগাদ ট্রেন ছাড়ার প্রায় দশ মিনিট পর খাবার আনতে প্যান্ট্রি কারের দিকে যান তিনি। তার পর থেকে আর তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দেবপালিক ফিরে না আসায় উদ্বেগ বাড়ে সঙ্গীদের।
পরে রাঁচির উপকণ্ঠে ঝাড়ওয়াদির কাছে রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণেই মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাঁচির রাজেন্দ্র ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেসে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায়।
দেবপালিকের মৃত্যুতে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, জন সূরজের তরফে এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দলের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জানানো হয়েছে, কী পরিস্থিতিতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাই এখনই কোনও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ নিশ্চিত ভাবে করা সম্ভব নয়। তবে মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে দাবি দলের।
প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে গত চার বছর ধরে কাজ করছিলেন দেবপালিক। বিহারের বিধানসভা নির্বাচনেও তিনি জন সূরজের মিডিয়া ম্যানেজারের দায়িত্ব সামলেছিলেন। দলের নির্বাচনী প্রচারে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি।
এক জন রাজনৈতিক কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠছে। তবে অনুমান বা জল্পনা নয়, তদন্তের ফলই শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট করতে পারে। এখন নজর ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্তের দিকে।





