নয়াদিল্লি, ২৮ অক্টোবরঃ আদালতে মামলা তোলা আর সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়া দু’টি এক বিষয় নয়। কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ‘আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি’র অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত শুনানির আর্জি জানাতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনার মুখে পড়লেন এক আইনজীবী। মঙ্গলবার মামলাটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন ঘিরে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তাঁর প্রশ্ন, মামলাটি তোলার পিছনে কি আইনি যুক্তি রয়েছে, নাকি সংবাদমাধ্যমের নজর আকর্ষণ করাই উদ্দেশ্য? একই সঙ্গে মামলার দ্রুত শুনানির জন্য আর্জি জানানোর পর্ব, অর্থাৎ ‘মেনশনিং’-এর সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশও দেন তিনি।
শুনানি চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জানান, যে ভাবে বিষয়টি আদালতে উত্থাপন করা হচ্ছে, তার পিছনে স্পষ্ট ভিত্তি বা সারবত্তা দেখতে পাচ্ছেন না তিনি। আইনজীবীকে উদ্দেশ করে তাঁর কটাক্ষ, “আপনি কি এই বিষয়ে কোনও খবরের চ্যানেলের সঙ্গে পরামর্শ করে এসেছেন? শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়ার জন্যই কি বিষয়টি তুলতে চাইছেন?” আদালতের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই চর্চা শুরু হয়েছে আইনজীবী মহলে।
মামলার সূত্রপাত কর্নাটকের বিজেপি কর্মী এস বিঘ্নেশ শিশিরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি থাকার অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি ওঠে। এর আগে এলাহাবাদ হাই কোর্ট সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন রাহুল।
পরবর্তী পর্যায়ে শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়। ফলে আপাতত ওই নির্দেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা তৈরি হয়। এই মামলায় অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বদলে আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
সুপ্রিম কোর্টে কোনও মামলার দ্রুত শুনানির আবেদন জানানোর প্রক্রিয়াকে ‘মেনশনিং’ বলা হয়। সেই পর্বের লাইভ সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রধান বিচারপতি এদিন আদালতের প্রক্রিয়ার গুরুত্বের দিকটিও সামনে আনলেন। মামলার আইনি দিকের পাশাপাশি, আদালতের সময় ও প্রক্রিয়াকে কী ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিয়েও তাঁর মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।





