নয়াদিল্লী, ২৮ অক্টোবরঃ রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রস্তুতি তুঙ্গে, আর তার মধ্যেই বাড়ছে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ। দিল্লির রামলীলা ময়দানে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ‘ইন্ডি’ জোটের প্রস্তাবিত সমাবেশে অনুমতি দিল দিল্লি পুলিশ। তবে সেই অনুমতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। অন্য দিকে, এই বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার দাবিতে অনড় রাজধানীর ব্যবসায়ী মহল। তাঁদের বক্তব্য, রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকারকে সম্মান জানিয়েও সম্ভাব্য ব্যবসায়িক ক্ষতির বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। সেই উদ্বেগের কথা সরাসরি জানাতে এবার কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীর কাছে ২০ মিনিট সময় চাইলেন ব্যবসায়ীরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান ব্যবহারের জন্য কংগ্রেসকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর সমাবেশ হওয়ার কথা। তবে নিরাপত্তা ও জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আয়োজকদের একাধিক নির্দেশ মানতে হবে। প্রবেশ ও প্রস্থানপথ, মঞ্চ এবং আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা বসাতে হবে। গোটা কর্মসূচির ভিডিও রেকর্ডিংয়ের পাশাপাশি তৈরি করতে হবে পৃথক সিসিটিভি নিয়ন্ত্রণকক্ষ।
সমাবেশে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, পুরুষ ও মহিলাদের জন্য আলাদা শৌচাগার এবং ভিড় সামলাতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক রাখার নির্দেশও দিয়েছে পুলিশ। স্বেচ্ছাসেবকদের এমন পোশাক বা ব্যাচ ব্যবহার করতে হবে, যাতে তাঁদের সহজেই চেনা যায়। পাশাপাশি, বিকেল ৫টার মধ্যে কর্মসূচি শেষ করে ময়দান খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের পরে সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি নেই।
এই পরিস্থিতিতে সমাবেশ স্থগিতের দাবিতে ফের সরব হয়েছে দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই)। সংগঠনের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল বুধবার রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়ে ২০ মিনিটের সাক্ষাতের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০টি বাজারের প্রতিনিধিরা রাহুলের সঙ্গে দেখা করে বোঝাতে চান, এই কর্মসূচির জেরে তাঁদের ব্যবসায় কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
গোয়েলের বক্তব্য, তাঁরা সংঘাত চান না, চান আলোচনা। ছোট ব্যবসায়ীদের সমস্যার কথা তুলে ধরাই তাঁদের উদ্দেশ্য। এর আগে চিঠি দিয়ে কর্মসূচি স্থগিতের আবেদন জানানো হলেও তা গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
এখন নজর রাহুল গান্ধীর সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয় কি না, এবং ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কোনও অবস্থান বদল করে কি না, সেদিকে। এক দিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রস্তুতি, অন্য দিকে বাজারের স্বাভাবিক কাজকর্ম বজায় রাখার দাবি দিল্লিতে দুইয়ের টানাপড়েন কোন পথে এগোয়, সেটাই দেখার।





