নয়াদিল্লী, ২৮ অক্টোবরঃ অপারেশন সিঁদুরের পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের কূটনৈতিক সমীকরণে কি নতুন কোনও ইঙ্গিত? পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা এবং তার জবাবে ভারতের সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে তীব্র টানাপড়েন তৈরি হয়েছিল, তার আবহেই এবার পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ জানাল নয়াদিল্লি। আগামী ২০ থেকে ২২ নভেম্বর দিল্লিতে আয়োজিত হতে চলেছে সাংহাই কোঅপারেশন অরগানাইজেশন (এসসিও)-এর বৈঠক। সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগ দেওয়ার জন্য পাকিস্তান-সহ ১০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আমন্ত্রণ তাৎপর্যপূর্ণ।
কেন্দ্রীয় সূত্রে খবর, সংস্কৃতি ও বিদেশ মন্ত্রকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হবে এই বৈঠক। দিল্লির ঐতিহাসিক পুরানা কেল্লায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের প্রাচীন সভ্যতা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সভ্যতাগত সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক কূটনীতি, ঐতিহ্য, প্রথাগত জ্ঞান এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলে জানা গিয়েছে।
রাশিয়া, চিন, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরান, বেলারুশ-সহ এসসিও-র ১০টি সদস্য দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও। দেশটির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য মন্ত্রী ঔরঙ্গজেব খান খিচিকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে বলে খবর। তবে ইসলামাবাদ এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাকিস্তানের তরফে এবিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়াও মেলেনি।
পাকিস্তানের মন্ত্রী দিল্লিতে এলে ২০২৩ সালের পর ফের ভারতের মাটিতে পা রাখবেন সে দেশের কোনও মন্ত্রী। সে বছর গোয়ায় এসসিও-র বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন তৎকালীন পাক বিদেশমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো।
উল্লেখ্য, গত বছর পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জনের মৃত্যুর পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায় ভারত। চার দিনের সামরিক অভিযানের পর দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সেই আবহে দীর্ঘদিন কূটনৈতিক যোগাযোগ কার্যত স্তব্ধ ছিল। তবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভারতের এসসিও-র জাতীয় সমন্বয়কারী অলোক ডিমরির ইসলামাবাদ সফরকে ঘিরেও আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লির এসসিও বৈঠকে পাকিস্তানকে আমন্ত্রণ নিছক আনুষ্ঠানিকতা, নাকি বহুপাক্ষিক মঞ্চকে সামনে রেখে সীমিত যোগাযোগের নতুন সুযোগ তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে আমন্ত্রণকে এখনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলার নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার অবকাশ নেই। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের অংশগ্রহণ এবং বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিদের ভূমিকার দিকেই নজর থাকবে কূটনৈতিক মহলের।





